গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় করতোয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদী থেকে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। পাড় ঘেঁষে তলদেশ কেটে বালু তোলায় নদী ভাঙনের আশঙ্কা করছেন পারের বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে ৫-৬টি স্পটে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যেই অবৈধ এ কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা, অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে, বলছে উপজেলা প্রশাসন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে পাড় ঘেঁষে তলদেশ থেকে বালু তোলার ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে বাড়ছে নদী ভাঙনের ঝুঁকি। হুমকির মুখে পড়েছে নদী পারের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চললেও রহস্যজনক কারণে দৃশ্যমান কোনো অভিযান চালানো হয়নি।
সরজমিনে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার করতোয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া, হিন্দুপাড়া এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনদুপুরে ড্রেজার মেশিন চালিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এসব বালু কাকরা (ট্রাক্টর) গাড়িতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ এসব জনপদে রাস্তা-ঘাট নষ্ট হচ্ছে। নদী থেকে বালু তোলা হলেও তা বন্ধে কোথাও কোনো কার্যকর নজরদারি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় শরিফ মিয়া নামে এক কলেজছাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তোলা ও বিক্রির কার্যক্রম চললেও দৃশ্যমান কোনো অভিযান হয়নি। এদিকে বালুবাহী ভারী ট্রাকের দাপটে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেড়েছে ধুলাবালির যন্ত্রণা। ভোগান্তিতে পড়েছি আমরা।
?নদীপারের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বলেন, সরকারিভাবে নদী খনন করার পরে মনে করছিলাম আমাদের ঘরবাড়ি রক্ষা পাবে। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনে গভীর গর্তের কারণে এই নদীই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে। কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, দিনরাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে বসবাস করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবীর বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনে জড়িতদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








