বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জ্বালানি সংকট না থাকলে পাম্পে লম্বা লাইন কেন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশে যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? রোববার সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন মনোযোগ আকর্ষণের বাতিল নোটিশের ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনায় এ কথা বলেন বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এ নেত্রী। তিনি বক্তব্য দেওয়ার সময় বিএনপির এমপিরা প্রতিবাদ ও হইচই করে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। পরে বিএনপির এমপিদের এমন আচরণের সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।

রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে বলেন– কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, সে মরে নাই। তেলের দাম শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু তার আগে দেখা গেল কয়েক কিলোমিটারজুড়ে লম্বা লাইন। মাঝরাত পর্যন্ত চালকরা দাঁড়িয়ে আছে; তারা তেল পাচ্ছে না। কিন্তু সরকারের সে ব্যাপারে কোনো হেলদোল নেই।

তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীরা সংসদে অবলীলায় বলেন, দেশে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নাই। কিন্তু তেল নিতে গেলে দেখা যায় তিন কিলোমিটার লম্বা লাইন। একদিকে সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সন্ধ্যা ৭টা বাজে মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অফিস-আদালতের সময় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে। তবে মনে রাখতে হবে, কেনাকাটা বা শপিং যেটুকু হয়, সেটুকু সন্ধ্যার পরেই হয়; তার আগে হয় না। কিন্তু প্রশ্নটা হচ্ছে, যদি জ্বালানির কোনো সংকটই না থাকে, তাহলে এত লম্বা লাইন কেন? দামই বাড়াতে হয় কেন? অফিস কর্মসূচির সময় পরিবর্তন করতে হয় কেন? এই প্রশ্নগুলো তো ওঠে।

স্বতন্ত্র এই এমপি বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীরা গণমাধ্যমে বলেন– দেশে আল্লাহর রহমতে কোনো সংকট নেই। কিন্তু তারা পরিষ্কার করেন না, দেশে বর্তমানে কত দিনের অকটেন-ডিজেলের মজুত আছে; কত দিন চলতে পারবে; পাম্পগুলো কেন পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল পায় না?

রুমিনের এই বক্তব্যকালে সরকারি দল বিএনপির সদস্য জয়নুল আবদিনকে হাত নেড়ে কিছু বলতে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্যের পর সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করতে থাকেন। তখন স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, প্লিজ, লেট আস ডিসিপ্লিন আওয়ারসেল্‌ফ।’

এ পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সরকারি দলের সদস্যদের এমন আচরণের সমালোচনা করে বলেন, কোনো সদস্য যখন দাঁড়িয়ে কোনো কথা বলবেন, তা নিয়ন্ত্রণ অথবা তাঁকে অ্যালাও করার একক এখতিয়ার হচ্ছে স্পিকারের।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, কিন্তু একজন স্বতন্ত্র সদস্য; তিনি যখন কথা বলছিলেন, দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন, যেটি আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। এটি আশা করা যায় না। এমনকি একবার-দুইবার নয়; চারবার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে যারা এসেছেন, তাদের কেউ কেউ এই কাজটা করেছেন। আমি এখানে তাদের নাম বলে নিজে লজ্জা পেতে চাই না। তিনি এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নিন্দা জানান।

এর আগে নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের গাজীপুর-৪ আসনের সদস্য সালাহউদ্দীন বলেন, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। সেখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সেচ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীরা হাঁসফাঁস করছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চতুর্দিকে যে অবস্থা চলছে, এটি উত্তরণে আশু ব্যবস্থা না নিলে তারা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, সংসদের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়ে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে বলে নজরে এসেছে। অতীতেও এমন দুর্নীতি হয়েছে। এটি যেন বন্ধ হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করেন এই এমপি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com