বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের দাবি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে
ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকারের শপথের স্থান মেহেরপুরের মুজিবনগর (বৈদ্যনাথতলা) স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন এবং বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদল। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নসংবলিত সব স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্নকে আবার সংরক্ষণ করে মুজিবনগরে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর স্থাপনের দাবি জানান।

ঢাকা থেকে যাওয়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু সাইদ খান, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মিনহাজুল হক, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, রফিক আহমেদ সিরাজীসহ স্থানীয় নেতারা।

 

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আবু সাইদ খান বলেন, ‘এখানে আমরা সবাই বিভিন্ন পেশার মানুষ হলেও আমাদের মতাদর্শ এক, সেটা আমরা সবাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। আমরা দেখেছি, সারা দেশে ৫ আগস্ট-পরবর্তী বিভিন্ন মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ও স্থাপনায় হামলা করা হয়েছে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এসব জায়গায় হামলা করা হলেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকার কোনো ধরনের পুনর্বাসন বা দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে ব্যবস্থা নেয়নি। এমনকি বর্তমানের নির্বাচিত সরকারের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আমাদের মনে রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বশেষে সবাই দেশকে স্বাধীন করার উদ্দেশ্যে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ কোনো একটি দলের বা কারো একক কৃতিত্বে হয়নি। এখানে সবার একনিষ্ঠ ত্যাগ ও তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে আমরা মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম।
আর তাই মুক্তিযুদ্ধকে এককভাবে না দেখে মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা থাকা উচিত।’ 

শামসুল হুদা বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্মৃতিস্মারক হিসেবে এই স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের অনেক কিছু শেখার এবং ইতিহাসকে সঠিকভাবে অনুধাবন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক, ৫ আগস্টের পর এসব স্মৃতিস্মারককে একদল মুক্তিযুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। আমরা নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি আবেদন জানাই, মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মৃতিচিহ্নও যেন মুছে না যায়।

দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের সব স্মৃতিচিহ্নকে সংরক্ষণের আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।’ 

রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধকে ভুলিয়ে দিতে চায়। সবাইকে মনে রাখতে হবে, মুক্তিযুদ্ধ সবার ওপরে আর মুক্তিযুদ্ধকে সবার ওপরেই স্থান দিতে হবে। আর তাহলেই কেবল আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হতে পারব।’

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com