বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর: গান, নাচ ও স্মারক বক্তৃতায় ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

গান, নাচ ও স্মারক বক্তৃতায় উদযাপিত হলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিষ্ঠার গৌরবময় ৩০ বছর পূর্তি। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাদুঘর মিলনায়তনে নানা আয়োজন করা হয়।

শুরুতেই ‘ত্রিশ বছরে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর’ শীর্ষক ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পথচলার ইতিহাস তুলে ধরা হয়। পরে তামান্না রহমানের পরিচালনায় ও ‘নৃত্যম’-এর নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনায় ‘সুন্দর সুবর্ণ তারুণ্য লাবণ্য’ শিরোনামের একক এবং ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি, ছুটে ছুটে আয়’ শিরোনামের দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

এরপর রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বে সূচনা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। গত এক বছরে জাদুঘরের কার্যক্রম নিয়ে বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আরেক প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ও সদস্য সচিব মফিদুল হক।

‘মুক্তিযুদ্ধ ও বাহাত্তরের সংবিধান’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী-স্মারক বক্তৃতা দেন খ্যাতিমান আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহ্‌দীন মালিক। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি ত্রপা মজুমদার। ওয়ার্দা আশরাফের কণ্ঠে পরপর কয়েকটি গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের যবনিকা টানা হয়।

স্মারক বক্তৃতায় ড. শাহ্‌দীন মালিক বাহাত্তরের সংবিধান রচনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য, জনগণের ক্ষমতা ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যে সংবিধান তৈরি করা হলো, তার ওপরই বারবার আক্রমণ এসেছে। যার প্রথম অবক্ষয় ও বিচ্যুতি ঘটেছে এই সংবিধান কার্যকরের মাত্র সাত মাসের মাথায় দ্বিতীয় সংশোধনী এনে। চতুর্থ সংশোধনীতে বাকশাল কায়েম এবং সামরিক শাসকদের ফরমান জারির মাধ্যমেও এটিকে বারবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে।

আমাদের ভালো ইতিহাস যেমন আছে, তেমনি মন্দ ইতিহাসও আছে–এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৫ বছরে অধিকার বঞ্চিত ও অত্যাচারিত-নির্যাতিত হতে হতে মানুষের মধ্যে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ জমা হয়। এই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে। স্বৈরশাসকদের এমনটাই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হয়।

শাহ্‌দীন মালিক বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান নির্ভুল ছিল এবং এটিতে ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিল না–এমনটা নয়। কিন্তু বিগত সময়ে এই সংবিধান নিয়ে এত টানাহেঁচড়া হয়েছে, তার জন্য বাহাত্তরের সংবিধানও দায়ী নয়। এর দায় যারা এই সংবিধানের অপব্যবহার করেছে, তাদের ওপরই বর্তায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবির কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, এত চটজলদি এসব অধ্যাদেশের বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ এর অধ্যাদেশ যে সরকার করেছে, তাদের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবল চারজন উপদেষ্টা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এগুলো করেছে। তাই জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনা ছাড়াই এগুলো অনুমোদন হলে মনে হবে গণতন্ত্রের ‘গ’ বুঝতেও আমাদের অনেক সময় লাগবে।

অন্য বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মারক প্রজন্মের পর প্রজন্মের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ কারও একক প্রচেষ্টায় সফলতা পায়নি। দেশের সব শ্রেণিপেশার মানুষের সহযোগিতায়ই এটি গড়ে উঠেছে। যার কারণে গত তিন দশকে প্রতিষ্ঠানটি সত্যিকার অর্থেই সর্বজনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত নাগরিকজনের প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পেরেছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com