কুমিল্লার সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। গত শনিবার কমিটি গঠন হওয়ার পরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
খতিয়ে দেখা হচ্ছে অর্পিতার একাডেমিক নথি ও পরীক্ষার ফল। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কমিটি কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থান করে। এ সময় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বক্তব্য নেন এবং ছাত্রীর একাডেমিক কাগজপত্র ও পরীক্ষার ফল জব্দ করেন।
কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফজলুল হক লিটন সমকালকে বলেন, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের কমিটির পাশাপাশি কলেজের নিজস্ব তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও কাজ করছে। দুই কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন, সদস্য হিসেবে আছেন অধ্যাপক ডা. জোবায়দা সুলতানা ও উপপরিচালক ডা. মুহাম্মদ আবদুল কাদের। কলেজের নিজস্ব কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন সহকারী অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে কলেজের মহিলা হোস্টেল থেকে অর্পিতার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওই ছাত্রীর ভাই শাহরিয়ার আরমান দাবি করেন, অর্পিতা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নিপীড়নের শিকার হচ্ছিলেন। অর্পিতা বারবার অ্যানাটমি বিভাগের শিক্ষকের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। প্রথম বর্ষ থেকে তাঁকে মানসিক চাপ দেওয়া হতো। পাঁচবার পরীক্ষা দেওয়ার পরও পাস করতে পারেননি। শেষ বর্ষের সহপাঠীদের সঙ্গে থাকলেও তাঁকে প্রথম বর্ষের ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হতো। অর্পিতার মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় তুলেছে। নেটিজেনরা ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
অধ্যাপক ডা. রুবীনা ইয়াসমীন বলেন, আমরা অর্পিতা নওশিনের আত্মহননের ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছি। এখনই কিছু বলা সম্ভব না। কমিটি সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত এবং সুপারিশ উপস্থাপন করবে।