মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সংবিধান সংশোধন কমিটি করা হবে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে সরকার ও বিরোধী দল। সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। সরকারি দল বিএনপি জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠন করে সেই কমিটির সুপারিশের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে চায়। অন্যদিকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দ্রুত অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে গতকাল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা।

এ পরিস্থিতিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য গতকাল মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য। ওই প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জন্য আগামী ৫ এপ্রিল সময় নির্ধারণ করেছেন স্পিকার। 

সংবিধান সংস্কার নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুলতবি প্রস্তাব (বিধি-৬২)-এর অধীনে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান প্রসঙ্গে ওই মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা ওই আলোচনায় অংশ নেন। দুই পক্ষ থেকে পৃথক প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে নোট অব ডিসেন্টসহ জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করা হয়। আর সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমসংখ্যক সদস্য নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
অবশ্য ওই প্রস্তাবে আপত্তি জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। 

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রীর দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংবিধান সংস্কারে বিশেষ কমিটি গঠনের বিষয়ে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে অভিজ্ঞ আইনজ্ঞদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে। কমিটিতে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের রাখা হবে।

এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব আগামী সপ্তাহে সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। 

জানা গেছে, বিরোধী দল সমসংখ্যক সদস্যের প্রস্তাব করলেও সংসদের বিশেষ কমিটিতে আসন অনুপাতে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব রাখা হবে। যদিও বিরোধী দল এই কমিটিতে থাকার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে, তার পর্যাপ্ত আইনি ভিত্তি নেই। এ কারণে বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটির পরিবর্তে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর অধিবেশন আহ্বানের লক্ষ্যে কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা থাকবেন বলে আশাবাদী সরকারি দল।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি কালের কণ্ঠকে জানান, সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি শিগগিরই গঠন করা হবে। এই কমিটি কত সদস্যের হবে তা এখনো চূড়ান্ত নয়। তবে সরকারি ও বিরোধী দলের আইন বিশেষজ্ঞরা এই কমিটিতে থাকবেন। সে ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের হতে পারে।

বিরোধী দলের ওয়াক আউট : এদিকে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদের দ্রুত অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানিয়ে গতকাল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেছেন বিরোধীদলীয় সদস্যরা। এ সময় স্পিকার তাঁদের ধৈর্য ধরার আহবান জানালেও তাঁরা তা আমলে নেননি। এ সময় সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিরোধী দল যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত চেয়েছে, সে বিষয়ে আনীত মুলতবি প্রস্তাবের নোটিশটি বিধিসম্মত ছিল না। ফলে এখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই।

গতকাল বুধবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে কথা বলার জন্য ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার যে এজেন্ডা আমরা উত্থাপন করেছিলাম এটা ছিল মূলত গণভোট ও গণভোটের রায়ের আলোকে সংস্কারের প্রস্তাব। এ জন্য যে পরিষদটা গঠন হওয়ার কথা সেই পরিষদের সভা আহবানসংক্রান্ত। এটাই ছিল মূল নোটিশের বিষয়। এক পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। প্রস্তাবে আমি রেসপন্স দিতে গিয়ে বলেছিলাম, যেহেতু আলোচনাটা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, যদি এটাকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ কমিটি গঠন হয় তাহলে আমরা ইতিবাচকভাবে সেটা ভেবে দেখব এবং একই সঙ্গে বলেছিলাম, সেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল থেকে সমানসংখ্যক সদস্য নিলে এটা অর্থবহ একটা কমিটি হিসেবে রূপ নেবে।’

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের সংস্কার প্রস্তাব এবং পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সমানসংখ্যক সদস্য নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা উচিত। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং সংকট নিরসনে এই কমিটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। জবাবে স্পিকার জানান, বিরোধী দলের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার নজির খুব কম থাকলেও বর্তমান অধিবেশনে আলোচনার স্বার্থে তা গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে আলোচনার অবারিত সুযোগ রয়েছে এবং আগামী দিনেও এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ দেওয়া হবে।

তবে স্পিকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হতে পারেনি বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, তাঁদের মূল নোটিশকে ধামাচাপা দিতে অন্য একটি নোটিশ সামনে আনা হয়েছে। তিনি একে ‘জনগণের রায়ের অবমূল্যায়ন’ এবং ‘সংসদীয় রীতির লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেন। বলেন, ‘প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টা কোনো দলের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। আমরা প্রতিকার যে পেলাম না এতে দেশবাসীর রায়ের প্রতিফলন হলো না মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এ কারণে তার প্রতিবাদে আমরা ওয়াক আউট করছি।’ পরে তিনি দলের সব সদস্য নিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।

বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতেই সংসদের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ফ্লোর নেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সংসদীয় সংস্কৃতিতে ওয়াক আউট একটি স্বাভাবিক বিষয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। তবে যে কথাগুলো রেকর্ড হয়ে গেল তার বিপরীতে আমাদের বক্তব্যটা এক দুই মিনিট রেকর্ডে থাকা ভালো। যে মুলতবি প্রস্তাব আপনার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার প্রিসাইড করেছেন উনি গ্রহণ করেছিলেন। তখনই আমি আপত্তি উত্থাপন করেছিলাম, যেটা ৬৮ বিধিতে হতে পারে। কিন্তু মূলত প্রস্তাব, যে রুলস অব প্রসেস আছে তার মধ্যে আপনি রাইটলি আইডেন্টিফাই করেছেন, সেটা আমি আগে উত্থাপন করেছি। যে বিষয়টি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে সে রকম কোনো বিষয় মুলতবি প্রস্তাবে আলোচনা করার বিধান নেই। এটা আপনাদের উদারতা, হাউসের অভিভাবক হিসেবে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উত্থাপিত হয়েছে। আপনি আলোচনার জন্য রেখেছেন এবং সেটা দুই ঘণ্টা আলোচনার জন্য সময় নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু নিষ্পত্তি কী হবে সে জন্য ভোটাভুটি দেওয়ার কোনো বিধান নাই।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে ৫ এপ্রিল সংসদে সাধারণ আলোচনা : বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তৈরি হলো এক বিরল নজির। দীর্ঘ ৫৩ বছরের পথচলায় এই প্রথমবারের মতো ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারি দলের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গতকাল জাতীয় সংসদ অধিবেশনে এই মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। এরপর স্পিকার এ প্রস্তাবের ওপর আলোচনার জন্য দিনক্ষণ নির্ধারণ করেন।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এটি আমাদের ভবিষ্যতের পথরেখা। আমি কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ বিধি অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করছি। এই সনদ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এর প্রকৃত বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বর্তমান সংসদের কার্যক্রম মুলতবি রেখে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি এই প্রস্তাব উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি।”

স্পিকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যপ্রণালী বিধির ৬৫ (২) বিধি অনুযায়ী আমি এটি আলোচনার অনুমতি দিচ্ছি। সংসদের বর্তমান কাজের অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ৫ এপ্রিল (রবিবার) দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এই প্রস্তাবের ওপর অনধিক দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হলো।’

স্পিকার বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসের ৫৩ বছরে এই প্রথম ট্রেজারি বেঞ্চের (সরকারি দল) কোনো সদস্য মুলতবি প্রস্তাব আনলেন। আমরা আগামী ৫ তারিখে এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com