ফলে জ্বালানির পাশাপাশি পর্যটন, আবাসন ও বিমান চলাচল মিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গড়ে তুলেছিল অর্থনীতির এক নতুন মডেলে, যা দেশটির আয়ের বড় উৎস হয়ে ওঠে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে সব হিসাব-নিকাশ।
ফলে জ্বালানির পাশাপাশি পর্যটন, আবাসন ও বিমান চলাচল মিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গড়ে তুলেছিল অর্থনীতির এক নতুন মডেলে, যা দেশটির আয়ের বড় উৎস হয়ে ওঠে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে সব হিসাব-নিকাশ।
মার্চ মাস পর্যন্ত ইরান আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজার ৮৭২টি ড্রোন ও ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে দুবাই। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ৮০ হাজার হোটেল বুকিং বাতিল হয়েছে।
পর্যটনের পাশাপাশি ইউএইর সবচেয়ে বড় আকর্ষণের একটি হচ্ছে এর আবাসন খাত।
মার্চের শেষে রিয়েল এস্টেট সূচক কমেছে অন্তত ১৬ শতাংশ। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব, এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমেছে। দ্রুত বিক্রির জন্য অনেক সম্পত্তি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে ছাড়তে হচ্ছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা এমার প্রপার্টিজের শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপে আছে দুবাইয়ের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাজারের সূচক কমেছে ১৬ শতাংশ, আবুধাবির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাই এখন বড় নাম। মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারের প্রায় অর্ধেকই এখানে। তবে এই চাহিদা নির্ভর করে পর্যটনের ওপর। ২০২৫ সালে দুবাইয়ে দুই কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছিল। দুই দশক ধরে দুবাই ও আবুধাবি এই অস্থির অঞ্চলে নিজেদের ‘স্থিতিশীল দেশ’ হিসেবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি এখন ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই