বোরো মৌসুমে সেচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডিজেল সংকট নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নড়াইলের প্রান্তিক কৃষকরা। স্থানীয় বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়ায় সময়মতো জমিতে পানি দেওয়া নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নড়াইল সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের সাব্বির হোসেন এবার তিন একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন।
জমিতে সেচ দিতে তিনি ডিজেলচালিত শ্যালো মেশিন ব্যবহার করেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধানের চারা ভালো হলেও সময়মতো পানি দিতে পারছেন না।
সাব্বির বলেন, ‘এক লাখ টাকা লোন করে এ বছর তিন একর জমিতে বোরো ধান লাগাইছি। এহন জমিতে টানের সময়, পানির খুব দরকার।
দোহান দোহান ঘুরেও ডিজেল পাচ্ছি না। খালি বোতল নিয়ে বাড়ি ফিরতি হয়। পানির অভাবে জমির গাছের গোড়ায় মাটি শুকাইয়া গেছে, গাছে লালভাব ধরছে।’
শুধু সাব্বির নন।
তাঁর মতো জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষক একই সমস্যায় পড়েছেন। স্থানীয় বাজারে ডিজেল না পেয়ে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন পেট্রল পাম্পে। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, স্থানীয় বাজারে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ টাকায় পাওয়া যেত। এখন তা ১১০ থেকে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর পাঁচ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে, যা থেকে তিন লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘কেউ বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করলে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হচ্ছে।