মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পাল্টাপাল্টি হামলা, মৃত্যু বাড়ছে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

তেলক্ষেত্র, ঐতিহাসিক স্থান, দূতাবাস, বিমানঘাঁটি, নৌবহর, সামরিক স্থাপনা, প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি অফিস– ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধে এসব কিছুই হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে পাল্টাপাল্টি হামলায় বেড়েছে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি। সরাসরি অংশ না নিয়েও কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চল।

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেশি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় পুরো অঞ্চল থেকে মার্কিনিদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, বিশ্বে তেল সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি। কোনো জাহাজ অতিক্রমের চেষ্টা করলে আগুন ধরানোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের ওপর হামলা শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ইউরোপের কোনো মিত্রকে প্রকাশ্যে পাশে পায়নি যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, তাঁর সরকার আকাশ থেকে হামলা চালিয়ে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনে বিশ্বাসী নয়। পলিটিকো লিখেছে, স্টারমারের এমন অবস্থানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অত্যন্ত হতাশ’। ইরাক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী যুক্তরাজ্য এ যুদ্ধ থেকে কার্যত নিজেকে সরিয়ে রাখছে। অন্যদিকে, ইরানের দুই মিত্র রাশিয়া ও চীনকেও সরাসরি সহযোগিতায় যুদ্ধের মাঠে দেখা যাচ্ছে না।

মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে তারা ১৭২টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। আঘাত হেনেছে ইসরায়েলেও। মধ্যাঞ্চলীয় শহর পেতাহ তিকভায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির তথ্য দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। অন্যদিকে, তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরেও প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬৫ শিশু, যারা শ্রেণিকক্ষে থাকাকালে হামলার শিকার হয়। পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ইসরায়েলে নিহত হয়েছেন ১১ জন। এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ছয় সেনা, বাহরাইনে একজন, ওমানে একজন, লেবাননে ৪০ জন, আমিরাতে একজন, কুয়েতে তিনজন ও ইরাকে দুজন নিহত হয়েছেন। বাহরাইন ও আমিরাতে নিহতদের দুজন বাংলাদেশি।

এ অবস্থায় যুদ্ধ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে স্বাধীন গবেষকদের প্ল্যাটফর্ম দ্য কনভারসেশনে বলা হয়েছে, যৌথ শক্তি যেভাবে ইরানে হামলা চালাচ্ছে, তাতে শিগগিরই যুদ্ধ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। কেবল প্রথম দিনে ইরানে দুই হাজার বোমা ফেলেছে ইসরায়েল। বোমা ফেলে সামরিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো ধ্বংস করা সম্ভব, তবে এটি সাফল্য নিশ্চিত করে না।

ইরানের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে শুরু করা যুদ্ধে ইতোমধ্যে সমালোচনার মুখে ট্রাম্প। অনেকে বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোমা ফেলে দেড় শতাধিক শিশু হত্যা, বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনা উল্টো ফল বয়ে আনছে। নিজেদের শাসক নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও ইরানের জনগণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কথা মানছে না। খামেনিকে হত্যা করে ট্রাম্প লোকজনকে সড়কে বের হতে বললেও কেউ বের হননি। উল্টো সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক জানাতে যুদ্ধের মধ্যেই তারা তেহরানের রাস্তায় বের হন। তাই পশ্চিমা গণমাধ্যমেও তিরস্কার স্পষ্ট। গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ছবিসংবলিত পলিটিকোর শিরোনাম ছিল– ‘শাসন পরিবর্তন ভুলে যান, আপনাদের আচরণ পরিবর্তনের কী হবে?’

সৌদি, কাতার, কুয়েত, বাহরাইনে হামলা
সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে কমপক্ষে দুটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সিএনএন জানায়, এতে সীমিত আকারে আগুন লাগে। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখা হয় এবং জরুরি পরিষেবা বাতিল করা হয়। হামলার জন্য ইরান দায়ী বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

কাতারেও সরাসরি হামলা চালিয়েছে ইরান। আলজাজিরা জানায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বাহিনীর আবাসস্থল আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে। একটি ড্রোন হামলায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দেশটির বিমানবাহিনীর দাবি, ইরানের দুটি জেট তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। দোহার আকাশে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে গত সোমবার বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী কাতার এনার্জি জানায়, ইরানের হামলার পর তারা উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলায় তিনজন নিহত ও ৬৮ জন আহত হয়েছেন। গত শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ১৮৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন ছোড়া হয়। এর মধ্যে ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৭৫৫টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

গতকাল কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে মার্কিন দূতাবাসকে লক্ষ্য করে ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে। দূতাবাসটি ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ‘ভুলবশত’ তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করে কুয়েত।
বাহরাইনে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে আইআরজিসি। আইআরজিসি বলছে, তারা হামলা চালাতে ২০টি ড্রোন ও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। হামলায় ওই মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র ও সদরদপ্তর ভবন ধ্বংস হয়েছে। হামলার সময় জ্বালানি ট্যাঙ্কগুলোতে আগুন ধরে যায়।

ইসরায়েলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গতকাল ইসরায়েলের তেল আবিবসহ বিভিন্ন স্থানে সাতজন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভবন, সড়ক ও যানবাহনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আগুন ধরে গিয়েছিল।

আলজাজিরা জানায়, হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১১ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। ইসরায়েল এখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি লেবানন থেকে ছোড়া ড্রোন মোকাবিলা করছে। বেশ কিছু ছবি ও ভিডিওতে ইসরায়েলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতের প্রমাণ সামনে এসেছে।

ইরানে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি
হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি) কমপ্লেক্স ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল আলজাজিরা জানায়, এসব হামলায় ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান ঐতিহাসিক গোলেস্তান প্রাসাদও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অবস্থায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের ওপর ‘সবচেয়ে কঠিন আঘাত’ এখনও বাকি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, চার দিনে দেশটির কমপক্ষে ১৫৩টি শহরে হামলা হয়েছে। ৫০৪ স্থানে আঘাত করেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ১ হাজার ৭০০টি হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৮৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, এক দিনে দেশটিতে অন্তত ৯৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮৫ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১১ সেনাসদস্য।

গতকাল তেহরানের ফেরদৌস স্কয়ারে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবন ও ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল ভবনে হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল। কেরমান প্রদেশে সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় ১৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

সাইপ্রাসে যুদ্ধ সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স 
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসে কাউন্টার-ড্রোন সক্ষমতাসম্পন্ন হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে এবং এ অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ড্রাগন মোতায়েন করা হচ্ছে। সাইপ্রাসে থাকা ব্রিটিশ সামরিক কর্মীদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাজ্য সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্টারমার একটি পোস্টে এসব কথা বলেছেন। এ ছাড়া ফ্রান্সও সাইপ্রাসে ফ্রিগেট এবং আরও বিমান প্রতিরক্ষা পাঠাবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, এ অঞ্চলে আমাদের বন্ধু ও মিত্রদের পাশে ফ্রান্সকে দাঁড়াতে হবে।

স্থল অভিযানের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, নাগরিকদের সরানো হচ্ছে 
ইরানের বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘স্থলে বুট মোতায়েনের’ প্রয়োজন হতে পারে। এর আগে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যেসব সামরিক রসদ মজুত আছে, শুধু তা দিয়েই চিরকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। বিবিসি জানায়, ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমাদের কাছে এ অস্ত্রের প্রায় অসীম মজুত আছে।’ এদিকে, পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, গাজা, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, আরব আমিরাত ও ইয়েমেন থেকে নাগরিকদের সরে যেতে বলা হয়েছে।

ইরানের বেশির ভাগ সামরিক শক্তি ধ্বংস হয়েছে: ট্রাম্প 
গতকাল মঙ্গলবার নতুন বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বেশির ভাগ সামরিক বাহিনী ‘ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তবে ইসরায়েল তাঁকে যুদ্ধ শুরু করতে বাধ্য করেছে– এ অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রথমে মার্কিন বাহিনীকে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন; কিন্তু পরে নতি স্বীকার করেন। স্পেনের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার হুমকিও তিনি দিয়েছিলেন। জবাবে স্পেন জানিয়ে দিয়েছে, ‘ট্রাম্পের হুমকির প্রভাব মোকাবিলার শক্তি আমাদের আছে।’ কারণ, মার্কিন বিমানগুলোকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেয়নি দেশটি। এর আগে আরেক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। কিন্তু এখন তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবেন না। অনেক দেরি হয়ে গেছে!’

মধ্যপ্রাচ্যের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত হানার হুমকি ইরানের 
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জেনারেল ইব্রাহিম জাব্বারি সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ অব্যাহত রাখলে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ‘সব অর্থনৈতিক কেন্দ্র’ গুঁড়িয়ে দেবে। তিনি বলেন, ‘আমরা শত্রুদের বলছি, যদি তারা আমাদের প্রধান কেন্দ্রগুলোতে আঘাত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আমরা এই অঞ্চলের সব অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত করব।’ তিনি বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছি। বর্তমানে তেলের দাম ৮০ ডলারের ওপরে এবং শিগগির ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। ইরানের সংবাদ সংস্থা এই খবর দিয়েছে।

উত্তেজনা কমানোর আহ্বান রাশিয়ার
মস্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ তাঁর ইরানি প্রতিপক্ষ আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ল্যাভরভ পরিস্থিতি কমানোর ও বলপ্রয়োগ প্রত্যাখ্যান করার পক্ষে একটি মৌলিক অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। এতে বলা হয়েছে, ল্যাভরভ এ অঞ্চলের সব দেশে বেসামরিক জনসংখ্যা ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছেন।

লেবানন-জর্ডানে অভিযান জোরদার 
লেবাননে অভিযান জোরদার করেছে ইসরায়েল। গতকাল দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। তারা দেশটির ৫৯টি এলাকায় ‘জরুরি’ স্থানান্তরের নির্দেশ জারি করেছে। জর্ডানে মার্কিন দূতাবাস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে নিহত ৪০ ও আহত হয়েছেন ১৫৪ জন। হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা ইসরায়েলের একটি ট্যাঙ্ক আটক ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইউরোপের দেশগুলোকে সতর্কতা
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুদ্ধে জড়ানো নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটি বলেছে, ইউরোপের দেশগুলো যদি জড়ায়, তবে সেটি তাদের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ বলে গণ্য হবে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেছেন, কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা আগ্রাসনকারীদের সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে, যা হবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সমতুল্য।

সায় নেই মার্কিন জনগণের
ইরানে হামলায় মার্কিন জনগণের সায় নেই। সাম্প্রতিক এক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রতি চারজনের মধ্যে মাত্র একজন মার্কিনি সমর্থন করেন। এক হাজার ৩০০ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর এ জরিপ চালানো হয়। মাত্র ২৭ শতাংশ হামলার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন; ৪৩ শতাংশ অসম্মতি জানান। ২৯ শতাংশ ‘জানেন না’ বলে মত দিয়েছেন।

যুদ্ধে জড়াবে না ন্যাটো
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও এ যুদ্ধে সরাসরি জড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো। ব্রাসেলসে জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কমিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে যা করছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে জোট হিসেবে ন্যাটো এই যুদ্ধে অংশ নেবে না।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com