মাসিকের সময় তীব্র ও অস্বাভাবিক ব্যথা সব সময় সাধারণ বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল রোগের লক্ষণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এমন ব্যথা উপেক্ষা করলে সিস্ট বা বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে ‘বাংলাদেশে এন্ডোমেট্রিওসিস পরিচর্যা সেবা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সহযোগিতায় গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে এন্ডোমেট্রিওসিস-এডিনোমায়োসিস সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ইএসবি)। বৈঠকের মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ, ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই।
এন্ডোমেট্রিয়াম হলো জরায়ুর ভেতর দিকের আবরণ। নারীর মাসিকের সময় এই টিস্যু ছিঁড়ে রক্তক্ষরণ হয় এবং এ রোগে জরায়ুর ভেতরের আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়, যা তীব্র ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং সন্তান ধারণে জটিলতার কারণ হতে পারে।
দীর্ঘদিন এ সমস্যায় ভুগলে ডিম্বাশয় ও জরায়ুতে টিউমার হতে পারে।
বৈঠকে বক্তারা জানান, এন্ডোমেট্রিওসিস নির্ণয় যত দ্রুত সম্ভব হবে, রোগটির চিকিৎসা তত বেশি কার্যকর হবে। তাই কিশোরীদের মধ্যে এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য স্কুল হেলথ প্রোগ্রামের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া, ক্যান্সার রেজিস্ট্রির আদলে এন্ডোমেট্রিওসিস রেজিস্ট্রি তৈরি এবং চিকিৎসার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ও ডেডিকেটেড সেন্টার, জাতীয় নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তিকরণ ও মডেল সেন্টার তৈরি জরুরি।
স্বাগত বক্তব্যে ইএসবির সভাপতি অধ্যাপক সামিনা চৌধুরী বলেন, ‘বিশ্বে প্রতি ১০ জন নারীর একজন এই রোগে আক্রান্ত।
বাংলাদেশে রোগটি নিয়ে কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় এর ব্যতিক্রম নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগটি শনাক্তে দেরি হয়। কারণ সামাজিক সংকোচ, কুসংস্কার ও সচেতনতার অভাব।’
তিনি জানান, এন্ডোমেট্রিওসিস সোসাইটি এবং ‘সিমেড’-এর সহায়তায় একটি মোবাইল অ্যাপ বা ডিজিটাল টুল তৈরি করা হয়েছে। এই টুলের মাধ্যমে কিশোরীরা নিজেরাই এন্ডোমেট্রিওসিস আছে কি না তা শনাক্ত করতে পারবে।
টুলটির কার্যকারিতা অত্যন্ত উচ্চ এবং এটি আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম বলেন, ‘এন্ডোমেট্রিওসিস প্রাথমিক অবস্থায় এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা মূলত মেডিক্যাল ম্যানেজমেন্ট, তবে রোগটি স্টেজ ৩ বা ৪-এ পৌঁছে গেলে সার্জিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।’
ওজিএসবি হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট অব রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের পরিচালক অধ্যাপক ফারহানা দেওয়ান বলেন, ‘প্রতিবছর মার্চ মাসকে এন্ডোমেট্রিওসিস সচেতনতার মাস হিসেবে পালন করা হয়। এবারের থিম হলো ‘এন্ডোমার্স ২৬’ এবং মূল স্লোগান হলো এন্ডোমেট্রিওসিস চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা।
ইএসবির মহাসচিব অধ্যাপক সালেহা বেগম চৌধুরীর সঞ্চালনায়, বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম, ওজিএসবির সভাপতি অধ্যাপক কোহিনূর বেগম, ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের প্রধান পরামর্শক অধ্যাপক মোছাম্মদ রাশিদা বেগম, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজনন এন্ডোক্রিনোলজি এবং বন্ধ্যত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাকিলা ইশরাত, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা, গাইনোকোলজিক্যাল এন্ডোস্কপিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শামসাদ জাহান, ইএসবির বৈজ্ঞানিক সচিব সহযোগী অধ্যাপক শারমিন আব্বাসি, ইউএনএফপিএর এসআরএইচআর বিশেষজ্ঞ ডা. আবু সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান, ল্যাপারোস্কোপি ও কোলোরেক্টাল সার্জারি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মনির হোসেন খান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার নুর আহম্মেদ গিয়াস উদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (বিদ্যালয় স্বাস্থ্য) আসিফ ইকবাল, রিসার্চ ও ফিজিশিয়ান ডা. ইসরাত জাহান, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (সেলস) আশরাফ উদ্দিন আহমেদ।