বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সব পদের ইফতারির দাম বেশি, বিপাকে ভোক্তা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস অনেকের জন্য স্বস্তির হলেও নিম্নমধ্যবিত্তের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ। কেননা গতবারের তুলনায় এবার অধিকাংশ ইফতারসামগ্রী কিনতে গুনতে হচ্ছে কয়েকগুণ ‘বাড়তি টাকা’। গত বছর যে পেয়াজু প্রতিপিস পাঁচ টাকায় কেনা গেছে, একই পেয়াজু এবার কিনতে হচ্ছে আট থেকে ১০ টাকায়। প্রতিপিস জিলাপি আট থেকে ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তাতে গুনতে হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা।

পেয়াজু, বেগুনি, জিলাপি, শরবতসহ কয়েকটি পদ দিয়ে তৈরি প্রতিপ্লেট ইফতারের দামও গতবারের চেয়ে এবার বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। রাস্তার পাশে থাকা ভাসমান হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা খরচেও পেট ভরছে না রোজাদারের। ৮৫০ থেকে এক হাজার টাকার নিচে মিলছে না হালিম।

ইফতার তৈরির সামগ্রীর দাম গতবারের চেয়ে বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব এবারের ইফতারি বাজারে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্টরা। রোজা শুরুর কয়েকদিন আগেও চট্টগ্রামে বেশ কিছু ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ে। ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখাই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়ি মোড়ে গত বৃহস্পতিবার কথা হয় রিকশাচালক মনজুর আহমদের সঙ্গে। অন্তত ১০টি হোটেল-রেস্টুরেন্টে গিয়েও কিছু না কিনে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। কিচেন রেস্টুরেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘সকালে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দুই মেয়ে প্রথম রোজায় গরুর হালিম খাওয়ার কথা বলেছে। কিন্তু একাধিক দোকানে গিয়েও তা কিনতে পারিনি। কারণ এক কেজি গরুর হালিমের দাম চাইছে ৮৫০ থেকে এক হাজার টাকা। তিন ঘণ্টা রিকশা চালিয়ে মাত্র ২২০ টাকা আয় করেছি। ৫০০ টাকায় হাফ কেজি হালিম কিনে অন্য ইফতার কী দিয়ে কিনব।’
এ দোকানের পাশের ক্যাফে লায়লা হোটেলের সামনে রোজাদারদের প্রচণ্ড ভিড় দেখা যায়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দেখা গেল বাড়তি দাম শুনে পছন্দের ইফতারি না কিনেই চলে গেলেন। তাদেরই একজন চাকরিজীবী লোকমান হোসেন বলেন, ‘নতুন বছরে এক টাকাও আয় বাড়েনি। কিন্তু খরচ তো বাড়ছেই। এখন ইফতারি কিনতে এসে দেখি সবকিছুর দামই গতবারের চেয়ে বেশি। এক কেজি চিকেন হালিমের দাম চাইছে ৭৫০ টাকা। অথচ গতবার কিনেছিলাম ৫৫০-৬০০ টাকায়। এক কেজি জিলাপির দাম নাকি ৫০০ টাকা। এত বাড়তি টাকায় আমার মতো কম আয়ের রোজাদারদের ইফতার কেনা অসম্ভব।’

চকবাজারের মদিনা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গত বছর প্রতিপিস জিলাপি ১০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকায়। চট্টগ্রাম নগরের স্টেডিয়াম এলাকার ‘ঝালমুড়ি’ দোকানে গত বছরের চেয়ে প্রতি পদের ইফতারে দুই থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। দেওয়ানবাজার মোড়ের এস ফুডে শরবতসহ কয়েক পদের উপকরণে তৈরি প্রতি প্লেট ইফতারের দাম গত বছর ছিল ১৪০ টাকা। এবার একই প্লেটের দাম রাখছে তারা ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। মোহাম্মদপুর মোড়ের মায়ের দোয়া রেস্টুরেন্টে গতবার প্রতিটি ফিরনি বিক্রি হয়েছিল ২০ টাকায়, যা এবার বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। একটি পরোটার দাম এবার পড়ছে ৩০ টাকা, একটি নানরুটি ৪০ টাকা। প্রতিপিস লুচির দাম পড়ছে ২৫-৩০ টাকা।

মায়ের দোয়া রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার মো. হোসেন বলেন, বছর ব্যবধানে ইফতার তৈরির প্রায় সামগ্রীর দাম বাড়ায় এবার দামও বেশি। মদিনা হোটেলের মালিক শফিউল হাসান বলেন, ‘গত বছর খোলা ময়দা প্রতিকেজি ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। এবার একই ময়দার দাম পড়ছে ৫০ টাকার ওপরে।’
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘রোজা শুরুর আগেই বাজারে দাম বাড়ে পেঁয়াজ, আলু, লেবু, সবজিসহ অনেক পণ্যের। ৩০ টাকার নিচে ছোট সাইজের একটি লেবু মিলছে না। এ কারণেই ইফতারির প্রায় সব পদের দাম এবার গতবারের চেয়ে বাড়তি। ইফতারি কিনতে গিয়ে নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ চরম বিপাকে। ভোগ্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে পারা নতুন সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে।’
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, কারসাজি ঠেকাতে নিয়মিত বাজার তদারকি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জড়িতদের মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি দণ্ডও দেওয়া হবে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com