ডিলারদের দাবি, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম বেড়েছে। তবে ভোক্তাদের অভিযোগ, সংকটের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন।
গত ৮ জানুয়ারি পরিবেশকদের হয়রানি ও জরিমানার প্রতিবাদে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দেয় এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি। এমন সময় এই ঘোষণা আসায় বাজারে আরও সংকট তৈরি হয়। পরে সরবরাহ চালুর কথা বলা হলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি।
সুনামগঞ্জে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও তা বিক্রি হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকায়। একজন গ্রাহক বলেন, আগে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় গ্যাস পাওয়া যেত, এখন ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকার নিচে মিলছে না। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে রান্নার গ্যাস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
রাঙ্গামাটিতে গ্যাসের সংকটে বন্ধের পথে জেলার একমাত্র সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা। শহরের তিনটি গ্যাস পাম্প বন্ধ রয়েছে। এক চালক বলেন, গ্যাস না থাকলে আমরা গাড়ি চালাব কীভাবে? দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও যাত্রীদের সিএনজি পাওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
ঢাকার সাভারে এলপিজি সংকটের কারণে অনেকে রান্নার বিকল্প হিসেবে আবার মাটির চুলা ব্যবহার শুরু করেছেন। এক বাসিন্দা বলেন, সরকারি গ্যাস নেই, এলপিজির দামও যদি এভাবে বাড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে?
আরও পড়ুন
ভুল পরিকল্পনার মাশুল, পানির নিচে ২৫ কোটি টাকার সুইমিংপুল!
খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা বেশি লাভের আশায় সরাসরি গ্রাহকদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন, ফলে দোকানিরা সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অনেক দোকানে সিলিন্ডার থাকলেও দাম এত বেশি যে নিম্ন আয়ের মানুষ কিনতে পারছেন না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায়ও একই চিত্র। দোকানে দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। ডিলাররা জানান, ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কোম্পানি পর্যাপ্ত সরবরাহ দিচ্ছে না। এদিকে, অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রি রোধে বাজার মনিটরিং জোরদার করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও জরিমানা করছে।
সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দ্রুত সংকট সমাধান না হলে এলপিজি বাজারের এই অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।