বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বছরজুড়ে ভোট আয়োজনে প্রস্তুতি শুরু ইসির

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই অনেক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রমজানের মধ্যে জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন শেষ করতে চায় তারা। স্থগিত শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন হবে ঈদুল ফিতরের পর।
ঈদের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনও হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ ছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে বাকি ৯টি সিটি করপোরেশনসহ জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদের ভোট আয়োজনের কথা ভাবছে ইসি। এ ছাড়া সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করতে পারে ইসি। সব মিলিয়ে চলতি বছরজুড়ে নির্বাচন নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হবে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনকে।

যত দ্রুত সম্ভব সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং উপজেলা নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলা পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারগুলোতে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এক দিনে তো সম্ভব নয়। আমরা ইমিডিয়েটলি ট্রাই টু গো ফর দ্যাট (আমরা শিগগির সেদিকে যাচ্ছি)।’

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বুধবার রাতে সমকালকে বলেছেন, কেবলই একটি বড় নির্বাচন শেষ করেছেন তারা। তার পরও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে অন্য নির্বাচনগুলো আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। রোজার মধ্যেই ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন হবে। রোজার মধ্যে তপশিল ঘোষণা করে ঈদের পর সংসদের একটি স্থগিত এবং একটি উপনির্বাচন আয়োজন করবেন তারা।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে ইসির পরিকল্পনা জানতে চাইলে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘আমার জানামতে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনও কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। তার পরও মেয়াদোত্তীর্ণ বড় সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো সেরে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য নির্বাচন আয়োজনেও হাত দেব।’

সংরক্ষিত নারী আসন দিয়ে শুরু

৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট আয়োজনের বিষয়ে দুয়েক দিনের মধ্যে কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলতি মাসের শেষ দিকে তপশিল ঘোষণা হতে পারে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন-২০০৪ অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ৫০টি সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন শেষ করতে হবে ইসিকে। গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে এসব আসনে নির্বাচনের জন্য দল ও জোটওয়ারি তালিকা তৈরি এবং ভোটার তালিকা (নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা) ইসিতে টানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২৯৯টি আসনে ভোট গ্রহণের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে ইসি। আইনি জটিলতায় চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রেখেছে ইসি। এ ছাড়া প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আগেই শেরপুর-৩ আসনের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়। এ ছাড়া দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা হয়েছে।

ইসি কর্মকর্তারা বলেছেন, আইন অনুযায়ী আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সংরক্ষিত নারী এমপি পদে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু এবং ১৪ এপ্রিলের মধ্যে ভোট শেষ করতে হবে তাদের। তবে সংরক্ষিত আসনের এমপিরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে যেন যোগদান করতে পারেন, সে লক্ষ্যে রোজার মধ্যেই এই নির্বাচন ও শপথ শেষ করার সম্ভাবনা নিয়েও ভাবছেন তারা। সে ক্ষেত্রে ঈদের আগেই এই প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে; যদিও কবে নাগাদ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে– এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত আসেনি।

৩০০ সংসদীয় আসনের বিপরীতে ৫০টি সংরক্ষিত আসন দল বা জোটের অনুকূলে বণ্টন করা হবে। সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে প্রতি আসনের বিপরীতে সংরক্ষিত আসন দাঁড়ায় শূন্য দশমিক ১৬৭টি অথবা প্রতি ছয়টি আসনের জন্য একটি। এ পদ্ধতিতে এবার বিএনপি ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ১২টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও স্বতন্ত্র এমপিরা একটি করে সংরক্ষিত মহিলা আসন পাবেন।

তিন সিটি দিয়ে শুরু স্থানীয় সরকারের নির্বাচন 
মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করতে চাইছে ইসি। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ভুক্ত স্থানীয় সরকার বিভাগের চিঠি এখনও না পেলেও আগেভাগে প্রস্তুত হচ্ছে তারা। এই তিন সিটি নির্বাচন শেষে পর্যায়ক্রমে আরও ৯ সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করবে সংস্থাটি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০ পৌরসভা, ৪৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

ইসি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা উঠেছিল। সে সময় তিন বড় সিটি করপোরেশন ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি দেওয়া হয় ইসিকে। পরে অবশ্য বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সম্মতি দেয়নি সরকার।

আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন। সেই হিসাবে গত বছরের ১ জুন এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন। এই সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। আইন অনুযায়ী, এই সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এই তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতি সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে ইসি। এ কারণে প্রথম দফায় সিটিগুলোতেই নির্বাচন আয়োজন করতে চাইছে তারা।
ইসি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। চট্টগ্রাম সিটির জন্য সময় খুবই সীমিত থাকায় সেখানে আলাদা জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

জানতে চাইলে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সমকালকে বলেন, তাদের মূল দায়িত্বই হচ্ছে নির্বাচন আয়োজন। সবসময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হয় তাদের। সরকারের নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো আয়োজনের পথে এগোবেন তারা।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com