সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের সততার সঙ্গে কাজ করা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মকর্তাদের তিনি বলেছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনা করা হবে না।
গতকাল বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সচিব এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে সচিবদের আন্তরিকভাবে কাজ করার কথা বলেছেন।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী আব্দুল বারী।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দুজন সচিব সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সচিব পদে পদায়ন ও বদলিতে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বিবেচনা করা হবে না। নির্ভয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সচিবদের রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে জনস্বার্থে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে। তিনি বলেছেন, নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা জানতে চাই না। তবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাজ ভালোভাবে পরিচালনার জন্য প্রধানমন্ত্রী সচিবদের সহযোগিতা চেয়েছেন
সূত্র জানায়, বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক চলে। কোনো সচিব বক্তব্য দেননি। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বক্তব্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সচিবদের উদ্দেশে বলেন, সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করতে হবে। মন্ত্রণালয় বা বিভাগের যে কোনো কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চালাতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, সচিবালয়ের নির্দেশমালা অনুযায়ী নিয়মকানুন মেনে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যেক কর্মকর্তাকে কাজে লাগানো এবং কাজ শেখাতে হবে। সততার সঙ্গে কাজ করলে কর্মকর্তারা প্রতিদান পাবেন।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী প্রথা অনুযায়ী সচিবদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ ৭৪ জন জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ আমাদের ম্যানিফেস্টোর ওপর ম্যান্ডেট দিয়েছে। সুতরাং যেটা জনগণের ইচ্ছা, সেটাই প্রাধান্য পাবে। সেই হিসেবে সরকার ম্যানিফেস্টো বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিক হবে।’
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী সচিবদের বলেছেন জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী রায় দিয়েছেন। সুতরাং সংবিধান ও আইনবিধি অনুযায়ী ওই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সচিবদের আন্তরিক হতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সবাইকে আমরা বলেছি, কে, কার কী অ্যাফিলিয়েশন (রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা) আছে, সেটি আমরা দেখব না। আমরা মেধার ভিত্তিতে সবাইকে যাচাই করব।’
এ বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, জনগণ রায় দিয়েছেন বিএনপির ইশতেহার দেখে। নিশ্চয় তারা ইশতেহার পছন্দ করেছেন। সেই ইশতেহার যেন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী পূরণ হয়, সে জন্য সব সচিবের মেধাকে কাজে লাগিয়ে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করা দেশের জন্য ভালো।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সচিবদের ইতিবাচক ধারণা
বর্তমানে ১১ জন জ্যেষ্ঠ সচিব আছেন যারা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন। সরকার বদলের পর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সচিবসহ প্রশাসনে কিছু কর্মকর্তার মধ্যে বদলি আতঙ্ক কাজ করছিল। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সচিবদের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ৯ ফেব্রুয়ারি সচিবের সঙ্গে সর্বশেষ বিশেষ সভা করেন। ওই বৈঠকে তিনি বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ বা ‘মকারি’ (তামাশা) হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এবারের জাতীয় নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করতে তিনি সচিবদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছিলেন।