সাত রাউন্ড আলোচনার পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। গতকাল বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটেগি তোসিমিৎসুর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনায় অংশ নেন। দুই দেশ যৌথ ঘোষণা দেয়। এ চুক্তি সম্পাদিত হলে প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিজেইপিএ আলোচনার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দল ২০২৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুই দেশ একযোগে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি খাত অন্তর্ভুক্ত করে সমন্বিত পদ্ধতিতে আলোচনার সুপারিশ করা হয়। গতকালের আলোচনায় অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়-সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ-এর চিফ নেগোসিয়েটর আয়েশা আক্তার, ডেপুটি চিফ নেগোসিয়েটর মো. ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ এবং ফোকাল পয়েন্ট মাহবুবা খাতুন মিনু উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ-এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো- বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্য চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ ছাড়া তৈরি পোশাক খাতে একক ধাপ রূপান্তর সুবিধাও পাবে। সেবা বাণিজ্য খাতেও উভয় দেশ অঙ্গীকার করেছে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে। জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








