১০ দলীয় জোটের গণজোয়ার দেখে একটি বড় দল ভয় পেয়ে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, জনগণ ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে এবং তাদের প্রকৃত প্রতিনিধিকে বিজয়ী করবে।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার পর তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে তিনি বাঁশতলা থেকে রামপুরা ব্রিজ পর্যন্ত গণমিছিলে অংশ নেন। জুমার নামাজের সময় থেকে তিনি সন্ধ্যা পর্যন্ত রামপুরা উত্তর ২২ নম্বর ওয়ার্ডে এবং সন্ধ্যার পর থেকে রামপুরা দক্ষিণ ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণায় অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী নির্বাচনে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুদের প্রতিহত করতে হবে। ঢাকা-১১ আসনে কোনো চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যুর স্থান হবে না। যারা ভোটকেন্দ্র দখলের পাঁয়তারা করছেন, তারা যেন সেই স্বপ্ন ভুলেও না দেখেন। আমরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দেব। বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ি ফিরব। আমরা বন্দুকের গুলি খেয়েও পিছু হটিনি, কেন্দ্র থেকেও পিছু হটব না।
তিনি বলেন, আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছি এক ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়ে অন্য ফ্যাসিবাদকে ফিরিয়ে আনার জন্য নয়। ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই এত এত মানুষ জীবন দিয়েছেন। এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার, গণতন্ত্র ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্বাচন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা পরিবারতন্ত্র, বৈষম্য ও দুর্নীতিকে ‘না’ বলব এবং ইনসাফ, সুশাসন ও প্রকৃত গণতন্ত্রকে ‘হ্যাঁ’ বলব। নির্বাচনের সময় ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং ভোটের দিন সবাইকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, এবারের নির্বাচন ১৬ বছরের ‘ফ্যাসিবাদী শাসনের’ পর প্রথম নির্বাচন এবং এটি একটি নতুন বন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার সুযোগ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রক্ত দিয়েছে শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং গণতন্ত্র, সাম্য ও সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করেছি। এই এলাকার মানুষ আমাকে চেনে। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের বিজয়ী করবেন ইনশাআল্লাহ। ১০ দলীয় জোট নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে যাবে, সরকার গঠন করবে এবং এই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। এ সময় নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, যানজট, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।








