বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সংসদ নির্বাচন চূড়ান্ত প্রার্থী বরাদ্দ আজ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিন শতাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তবে বিএনপির কয়েক বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। অন্যদিকে, জামায়াতের কয়েক জন প্রার্থকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করে রাখার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি। ফলে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে এসব আসনের ভোটযুদ্ধ আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ায় আজ বুধবার বুধবার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং একই সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরদিন বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। ফলে আজ বুধবার প্রতীক বরাদ্দের পর কাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ। আর ওই দিন থেকেই ভোটারদের সমর্থন পেতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা। তুলে ধরবেন নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পরের কার্যক্রম নিয়ে ইসির পরিপত্রে বলা হয়েছে, ‘প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখের পরের দিন অর্থাৎ ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করে নামের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুসারে নির্ধারিত ফরম-৫ এ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নামের তালিকায় নামগুলো বাংলা বর্ণক্রমানুসারে সাজিয়ে লিখতে হবে।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
ঢাকায় ২০ আসনে ২৫ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ ঢাকা জেলার ২০টি আসনে মঙ্গলবার  ২৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এসব আসনে ১৯৩ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২৫ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করায় এখন এই ২০টি আসনে ১৬৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সোম ও মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়। সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ১৯ জন, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ২ জন এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৪ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর চারজন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র দুজন প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণফোরাম, লেবার পার্টি লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি এলডিপি, গণসংহতি আন্দোলন, নেজাম-ই-ইসলামি পার্টি এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির একজন করে প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এ ছাড়া এবি পার্টির দুজন, খেলাফত আন্দোলনের দুজন, খেলাফত মজলিসের পাঁচজন এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ঢাকায় মনোনয়নপত্র যারা প্রত্যাহার করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন-  ঢাকা-১ : খেলাফত মজলিসের ফরহাদ হোসেন, ঢাকা-৫ : বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মোখলেছুর রহমান কাছেমী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) মো. লুৎফুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির এসএম শাহরিয়া, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আতিকুর রহমান নায়ু মুন্সী। ঢাকা-৬ : আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) গাজী নাসির। ঢাকা-৭ : জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির তারেক আহম্মেদ আদেল। ঢাকা-৯ : খেলাফত মজলিসের মো. ফয়েজ বখশ্ সরকার, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কবির আহমদ। ঢাকা-১০ : খেলাফত মজলিসের আহমদ আলী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল।
আরও যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন- ঢাকা-১২ : বাংলাদেশ লেবার পার্টির মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান,  ঢাকা-১৩ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মুরাদ হোসেন। ঢাকা-১৫ : গণফোরামের এ কে এম শফিকুল ইসলাম। ঢাকা-১৬ : বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আহসানউল্লাহ, খেলাফত মজলিসের মো. রিফাত হোসেন মালিক। ঢাকা-১৭ : খেলাফত মজলিসের মো. এমদাদুল হক, ঢাকা-১৮: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ আশরাফুল হক, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি-এলডিপির মফিজুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ (আমীন)। ঢাকা ১৯ : খেলাফত মজলিসের একে এম এনামুল হক, জামায়াত ইসলামীর আফজাল হোসাইন এবং ঢাকা-২০ আসনে জামায়াত ইসলামীর আব্দুর রউফ।
চট্টগ্রামে ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার চট্টগ্রাম অফিস থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন ১২ জন। ফলে জেলার ১৬টি আসনে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রইলেন ১১০ জন প্রার্থী।
শেষদিনে যারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন তারা হলেন চট্টগ্রাম-২ আসনে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির ওসমান আলী ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের এইচ এম আশরাফ বিন ইয়াকুব, চট্টগ্রাম-৫ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মোক্তার আহমেদ, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম-৭ আসনে খেলাফত মজলিসের মো. আবুল কালাম, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মো. নেজাম উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির মোহাম্মদ লোকমান, চট্টগ্রাম-১২ আসনে গণঅধিকার পরিষদের এমদাদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে খেরাফত মজলিসের মোহাম্মদ ইমরান এবং চট্টগ্রাম-১৬ আসনে এলডিপির মো. কফিল উদ্দিন ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মুহাম্মদ মুসা।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। ভোটের মাঠে এখন চট্টগ্রাম জেলার থাকলেন ১১০ জন প্রার্থী। আসন ওয়ারী প্রার্থী চট্টগ্রাম-১ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-৫ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-৬ আসনে ৪ জন, চট্টগ্রাম-৭ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-৯ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৯ জন, চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১০ জন, চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৭ জন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৬ জন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৮ জন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ৩ এবং চট্টগ্রাম ১৬ আসনে ৭ জন।
ময়মনসিংহে ১৯ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ ময়মনসিহ থেকে বাবুল হোসেন জানান, ময়মনসিংহের ১১টি আসনে ১৯ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন- ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট- ধোবাউড়া) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ (স্বতন্ত্র) ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী), ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর- তারাকান্দা) আসনে মতিউর রহমান (খেলাফত মজলিস) ও মো. আনোয়ার হাসান (জামায়াতে ইসলামী), ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে মো. ফজলুর রহমান (খেলাফত মজলিস) ও মো. বদরুজ্জামান (জামায়াতে ইসলামী), ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে মোস্তাক আহাম্মদ (খেলাফত মজলিস), ময়মনসিংহ- ৫ (মুক্তাগাছা) আসনে রেজাউল করিম (খেলাফত মজলিস), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে মোহাম্মদ আব্দুল করিম (স্বতন্ত্র) ও মো. রফিকুল ইসলাম (খেলাফত মজলিস), ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে আঃ কুদ্দুস (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস) ও মো. নজরুল ইসলাম (খেলাফত মজলিস), ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে আহাম্মদ হোসেন ভূঞা (খেলাফত মজলিস) ও মনজুরুল হক হাসান (জামায়াতে ইসলামী), ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে মো. মামুন বিন আব্দুল মান্নান (স্বতন্ত্র), ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে আল ফাতাহ মো. আঃ হান্নান (স্বতন্ত্র), আলমগীর মাহমুদ (স্বতন্ত্র) ও মো. মুশফিকুর রহমান (স্বতন্ত্র) এবং ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ পাঠান (জামায়াতে ইসলামী)।
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে। কোনো কেন্দ্রে অপ্রতিকর ঘটনা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ।
বরিশালে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ বরিশাল থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ (সদর) আসন থেকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল। মঙ্গলবার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
একইসঙ্গে বরিশাল-৫ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে সমর্থনের ঘোষণা করেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর সাংবাদিকদের কাছে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছি। একইসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মোহাম্মাদ ফয়জুল করিমকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের ৪৩ জন প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে রয়েছেন, বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ মনোনীত প্রার্থী মো. তারিকুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুন্সি মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফখরুল আহসান এবং বরিশাল-৫ আসনে এবি পার্টির প্রার্থী তারিকুল ইসলাম।
টাঙ্গাইলের ৮ আসনে ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ টাঙ্গাইল থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত টাঙ্গাইলের আটটি আসনে মোট নয় প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যারা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন তারা হলেন- টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনে শাকিল উজ্জামান (গণঅধিকার পরিষদ), টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে হোসনি মোবারক (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে হাসনাত আল আমীন (খেলাফত মজলিস), টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে আতিকুর রহমান (স্বতন্ত্র), শরিফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), কবির হোসেন (গণঅধিকার পরিষদ), টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনে আবু তাহের (খেলাফত মজলিস), এটিএম রেজাউল করিম আলরাজী (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে শহিদুল ইসলাম (খেলাফত মজলিস)।
এসব প্রার্থীরা রিটার্নিং অফিসার/সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
টাঙ্গাইল জেলার আটটি আসনে নয় প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করায় জেলায় বর্তমানে মোট বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ৪৬ জন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে ৪৬জন প্রার্থীর মাঝে নির্বাচনী প্রতিক বরাদ্দ দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল হতে প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।
গাজীপুরে বিদ্রোহীসহ ৮ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ গাজীপুর থেকে স্টাফ রির্পোটার জানান, গাজীপুরে বিএনপির এক বিদ্রোহীসহ ৮ প্রার্থী মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাদের মধ্যে গাজীপুর-১ ও গাজীপুর-৫ আসন থেকে একজন করে দুজন এবং গাজীপুর-২ আসন থেকে ৪ জন ও গাজীপুর-৩ আসন থেকে ২ জন রয়েছেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন, গাজীপুর-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির আল আমিন, গাজীপুর-২ থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সরকার, জামায়াতে ইসলামের মোহাম্মদ হোসেন, এবি পার্টির আব্বাস ইসলাম খান ও খেলাফত মজলিসের খন্দকার রুহুল আমিন, গাজীপুর-৩ থেকে এবি পার্টির মো. কৌশিক আহামেদ ও জামায়াতে ইসলামীর মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং গাজীপুর-৫ আসন থেকে খেলাফত মজলিসের রুহুল আমিন।
নারায়ণগঞ্জে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলায় তিনজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বুধবার চূড়ান্ত এ ৪৭ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। প্রতীক বরাদ্দের পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় যেতে পারবেন। তবে প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রতারণা চালাতে হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মঙ্গলবার ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আ. কাইয়ুম শিকদার, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে একই দলের প্রার্থী মো. আবুল কালাম দুলাল ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ইলিয়াস আহমেদ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ৭ জন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে ৬জন, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ১১জন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ১৩ জন ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে ১০ জন।
মুন্সীগঞ্জে ৩ সপুসহ ৪ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ মুন্সীগঞ্জ থেকে নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ চার প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন। ফলে জেলার তিনটি আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী ১৯ জন। মনোনয়নপত্র  দাখিল করেছিলেন ২৩ জন প্রার্থী। ছয় জনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বাতিল হলেও নির্বাচন কমিশনে আপিল করে সব প্রার্থীই প্রার্থিতা ফিরে পান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, বুধবার প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং একই সঙ্গে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। জোটবদ্ধ নির্বাচনের কারণে আসনটি এনসিপি প্রার্থীকে ছেড়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক এভিএম ফজলুল করিম এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তাঁরা ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী হাজী আব্বাস কাজী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তাঁর দলের নূর হোসেন নূরানী আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছেন।
বাগেরহাটে ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ বাগেরহাট থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, বাগেরহাটের চারটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ৬ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
বাগেরহাট-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএ সালাম, একই আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা রমিজ উদ্দিন ও খেলাফত মজলিসের বালী নাসের ইকবাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
বাগেরহাট-৩ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মোল্লা মো. রহমাতুল্লাহ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মো. জুলফিকার হোসেন তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতারা বলছেন, ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ১০ দলীয় জোটের যে প্রার্থী রয়েছেন তার পক্ষে কাজ করবেন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি এমএ সালাম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।
এদিকে ছয়জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় জেলার চারটি আসনে ২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন।
বগুড়ায় ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়ার তিনটি আসন থেকে তিনজন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশেনের (ইসি) তফসিল অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নিজের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন তারা।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়া তিন প্রার্থী হলেন- বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাদী আলম লিপি, বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তৌহিদুল ইসলাম এবং বগুড়া-৪ (শেরপুর ও ধুনট) আসনের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (এলডিপি) কামরুল হাসান মো. শাহেদ ফেরদৌস।
ঝালকাঠিতে ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি জেলার ২টি আসনে বৈধ ২৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন প্রার্থিতা করায় ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঙ্গলবার প্রত্যাহারের শেষ দিনেই ৪ জন প্রত্যাহার করেছেন। ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামকে সমর্থন জানিয়ে এদের দলের জোটভুক্ত অবস্থান থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির মাহামুদা আলম মিতু প্রত্যাহার করেছেন এবং ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে এই জোটভুক্ত আমার বাংলাদেশ পার্টির শেখ জামাল জামায়াতে ইসলামীর শেখ মো. নেয়ামুল করিমকে সমর্থন জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ লেবার পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম আজম সৈকত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বুধবার এই নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
নীলফামারীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ নীলফামারী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন নীলফামারীতে তিন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছে। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ওই তিন প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জেলার চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রইলেন ২৮ জন। প্রত্যাহারহারীরা হলেন, নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে রফিকুল ইসলাম (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (খেলাফত মজলিস), নীলফামারী-৪  সৈয়দপুর-কিশোরীগঞ্জ) নূর মোহাম্মদ (এলডিপি)।
চাঁদপুরের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ৬ জন ॥ চাঁদপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ৩৫জন প্রার্থী। এসব আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৭০ জন। মনোনয়নপত্র জমা দেন ৪৬ জন। বৈধ প্রার্থী ছিলেন ৩০ জন। ১৬ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। আপিলে প্রার্থিতা ফেরত পান ১১ জন। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন ৬ জন।  মঙ্গলবার রাতে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে একজন, চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে দুজন, চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে দুজন, চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনে একজন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
নওগাঁয় ৬ প্রত্যাহার ৪ জনের ॥ নওগাঁ থেকে সংবাদদাতা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসনে চার জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। এতে জেলার ছয়টি আসনে মোট ৩২ জন প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারকারীরা হলেন, নওগাঁ-২ (পতœীতলা-ধামইরহাট) আসনের ইসলামী আন্দোলন প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন, খেলাফতে মজলিসের প্রার্থী আব্দুর রহমান ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হুমায়ুন কবির চৌধুরী এবং নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের এবি পার্টির প্রার্থী কাজী আতিকুর রহমান।
ঠাকুরগাঁও ২ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহার ॥ ঠাকুরগাঁও থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী-হরিপুর) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর বিদ্রোহী প্রার্থী জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী তুলা অবশেষে তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এতে করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আলোচিত এই আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ইশরাত ফারজানার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন পত্র তুলে দেন।
রিটার্নিং অফিস জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফরিদপুরে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ৪ প্রার্থী ॥ ফরিদপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে ফরিদপুর ১ ও ২ আসনে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে তারা এই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ফরিদপুর-১ আসনের ৩ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মুহাম্মদ খালিদ বিন নাছের, ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট এনডিএফের শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি শরাফত হুসাইন।এ ছাড়া ফরিদপুর-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. জয়নুল আবেদীন বকুল মিয়া তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেে    ছন।
রাজশাহীতে ৩ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহা ॥ রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। রাজশাহী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে এই ৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন, রাজশাহী-১ আসনের সুলতানুল ইসলাম তারেক (স্বতন্ত্র), রাজশাহী-৩ আসনের মো. ওয়াহেদুজ্জামান (এলডিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মাদ ফজলুল করিম। রাজশাহী জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর ৬টি সংসদীয় আসনের ৩২ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
নোয়াখালীতে ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ॥ নোয়াখালী থেকে নিজস্ব সংবাদাদাতা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ছয়টি আসনের ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
ছয়টি আসনে বর্তমানে বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৪৭ জন। এর আগে, গত ২৯ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে নোয়াখালীর ছয়টি সংসদীয় আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে ৬২ জন প্রার্থী তাদের আবেদন জমা দেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারকারী প্রার্থীরা হলেন, নোয়াখালী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাইয়েদ আহমেদ, নোয়াখালী-২ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তোফাজ্জ্বল হোসেন, নোয়াখালী-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদদীন মওদুদ ও একই আসনে খেলফত মজলিসের প্রার্থী আলী আহমদ, নোয়াখালী-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।
অপরদিকে, জেলাজুড়ে আলোচনায় থাকা নোয়াখালী-২ (সেনবাগ ও সোনাইমুড়ীর আংশিক) বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভির উদ্দিন রাজীব ও আরেক বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফজলুল আজিম তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি।
খুলনায় ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহা ॥ খুলনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় মঙ্গলবার ৫ জন প্রার্থী সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রত্যাহারকারীদের মধ্যে খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা রয়েছেন।
খুলনার ৬ টি আসনে মোট বৈধ প্রাথী ছিল ৪৩ জন। তার মধ্যে আজ প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত ৫ জন প্রত্যাহার করেছে। এর ফলে এখন ৬টি আসনে ৩৮ জন বৈধ প্রাথী নির্বাচনী দৌড়ে টিকে থাকলেন।
প্রত্যাহার করা প্রার্থীরা হলেন, খুলনা-১ থেকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের ফিরোজুল ইসলাম , খুলনা-২ থেকে খেলাফতে মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম, খুলনা-০৩ থেকে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের হারুনুর রশীদ, খুলনা-৪ এ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. কবিরুল ইসলাম, খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন।
জামায়াতের প্রার্থীরা অবরুদ্ধ ॥ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্ম-সমর্থকদের দ্বারা জামায়াতের প্রার্থীদের অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পাওয়া গেছে। এ কারণে সুনামগঞ্জ-১, সিলেট-৩ ও নারায়ণগঞ্জ-৩  আসনের প্রার্থীরা মনোনয়পত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
সুনামগঞ্জ থেকে এস এম মিজান জানান, অবরুদ্ধ থাকার কারণে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি সুনামগঞ্জ-১ (তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, মধ্যনগর, ধর্মপাশা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহমদ খান। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকায় তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ পাননি। জানা গেছে, জেলা সদরে অবস্থিত জেলা জামায়াত কার্যালয়ে  সকাল থেকেই তোফায়েল আহমদ খানকে ঘিরে রাখেন তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ ভোটার ও কর্মী-সমর্থকরা। এ সময় তাকে কার্যত তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়, যাতে তিনি কোনোভাবেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন।
সিলেট অফিস থেকে সালাম মশরুর জানান, প্রার্থিতা প্রত্যাহার থেকে বিরত রাখতে সিলেট-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদের বাড়িতে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ রাখেন তার কর্মী-সমর্থকরা। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে তিনি যাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যেতে না পারেন, সে জন্য স্থানীয় কিছু মানুষ তার বাড়ির সামনে ও পেছনের গেটে তালা লাগিয়ে দেন। এই ঘটনা এলাকায় আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। জামায়াত ইসলামী নেতাকর্মীদের একাংশ দাবি করছেন, এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদই জোটের প্রার্থী। অপরদিকে, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে প্রচার করা হচ্ছে, আসনটি তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং মুসলেহ উদ্দীন রাজুই জোটের প্রার্থী।
নারায়ণগঞ্জ থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, অবরুদ্ধ থাকায় মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ-৩  (সোনারগাও-সিদ্দিরগঞ্জ) আসনের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়া। মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সোনারগাঁও উপজেলায় তার নিজ বাসায় তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এলাকাবাসী ও কর্মী-সমর্থকরা। এদিন বিকেলে জামায়াতের প্রার্থী ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়ার মোবাইল ফোনে কল দিলে অপরিচিত একজন জানান, ড. ইকবাল হোসাইন ভূইয়াকে একটি রুমের মধ্যে তালাবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। যাতে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে না পারেন। পুরো বাড়ি কর্মী সমর্থকরা ঘিরে রেখেছেন।
এদিকে রাঙ্গামাটি থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গামাটি ২৯৯  আসন থেকে জোটের সিদ্বান্ত আনুারে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী  মোখতার আহম্মদ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে  তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন যা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকলকে জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই আসনে ৭ জন প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছে।
নাটোর থেকে কাজী মাহমুদুল হাসান জানান, নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে ১০ দলীয় জোটের মধ্যে সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক সাইদুর রহমান তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এতে করে এই আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এনসিপি মনোনীত প্রার্থী এসৎএম জার্জিস কাদির বাবু। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আসমা শাহীনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদন জমা দেন অধ্যাপক সাইদুর রহমান।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com