মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দ্রুত জ্বালানি মহাপরিকল্পনা সংশোধনের আহ্বান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
সমন্বিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (আইইপিএমপি) দ্রুত সংশোধন করে তাতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশীদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলেছেন, বর্তমানে জ্বালানি খাতে এক যুগ-সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। তাই জাতীয় সমৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর নীতি গ্রহণ জরুরি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর সামরিক জাদুঘরে বাংলাদেশ জ্বালানি সম্মেলন-২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তাঁরা।

জ্বালানি খাতে ন্যায্য ও টেকসই রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হওয়া এই জাতীয় সম্মেলনে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ রূপান্তরের দিকনির্দেশনা নিয়ে নীতিনির্ধারক, বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতিবেশ ও উন্নয়নবিষয়ক কর্মজোটের (বিডব্লিউজিইডি) আহ্বায়ক অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির নির্বাহী সদস্য মনোয়ার মোস্তফা। 

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর একটি সময়সাপেক্ষ কাজ।

এর অংশ হিসেবে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে নানা নীতিমালা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা কমল নাকি বাড়ল এর চেয়ে মুখ্য বিষয় হলো লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা। কারণ বিগত সময়ে বড় বড় লক্ষ্য নেওয়া হলেও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে খুবই সামান্য। সে কারণে একটি বাস্তবভিত্তিক নীতিমালা খুবই জরুরি।
তিনি বলেন, আমরা প্রত্যেকটি সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি, যা দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। 

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, সঠিক নীতি ও দক্ষ জনবল—এই তিনটির সমন্বয় ছাড়া কার্যকর জ্বালানি রূপান্তর সম্ভব নয়। বিদেশি পরামর্শক-নির্ভরতা কমিয়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং নীতি বাস্তবায়নে দেশীয় মালিকানা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ।

সেন্টার ফর রিনিউয়েবল এনার্জি সার্ভিসেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর বিদ্যুৎ খাতে সরকারের সাবসিডি দিতে হচ্ছে চার বিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেক অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দিলে পরিস্থিতি পাল্টে যাবে।

কিন্তু বিদ্যুৎ খাতের নীতিমালাগুলো নবায়নযোগ্য বান্ধব নয়। ফলে এই খাতে অগ্রগতি হচ্ছে না। আইইপিএমপিতে এসব বিষয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশীয় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মহাপরিকল্পনা সাজাতে হবে। তাহলে এটি গ্রহণযোগ্য হবে। 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত সরকারের আমলে জ্বালানি খাতে সঙ্ঘবদ্ধ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যার বড় একটি ছিল পলিসিগত অপরাধ। জাইকা বা বিদেশি পরামর্শকদের তৈরি মহাপরিকল্পনা কখনোই নবায়নযোগ্য এনার্জির স্বার্থ রক্ষা করবে না। সুতরাং পরিকল্পনায় দেশীয় বিশেষজ্ঞদের বেশি যুক্ত করতে হবে।

লিড বাংলাদেশের গবেষণা পরিচালক শিমনুজ্জামান বলেন, জ্বালানি রূপান্তরে আইনগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com