অনুমোদন দেওয়া সংশোধিত আরপিওর নানা দিক তুলে ধরে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যে সংজ্ঞা, সেখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত যেসব বিধান ছিল তা বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচন করতে পারবেন না, এটিও যুক্ত করা হয়েছে। যদি নির্বাচনী জোট হয়, তাহলে জোটের অংশ হলেও দলের যে প্রতীক তা দিয়ে নির্বাচন করতে হবে, যাতে ভোটাররা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন প্রার্থী কোন দলের।প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন গত ১১ আগস্ট আরপিও সংশোধনের জন্য যেসব প্রস্তাব অনুমোদন করে তাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ছিল।
কিন্তু পরে ইসি এই প্রস্তাব গ্রহণ করে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন আলোচনা করেছে। আলোচনায় উভয় কমিশন সন্তুষ্ট হয়েছে এবং মনে করেছে এমন বিধান রাখা ভালো হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ছিল, আরপিও’র ১২ ধারায় কোনো আদালত কর্তৃক ফেরারী আসামী হিসেবে ঘোষিত ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া থেকে বিরত রাখতে হবে।
আরপিও সংশোধনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলো সম্পর্কে গতকাল আইন উপদেষ্টা আরো জানান, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সম্পর্কিত বিধান বাতিল করা হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সবাইকে তাঁদের দেশি ও বিদেশি আয়ের উৎস, সম্পত্তির বিবরণ এবং আর্থিক তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে, যাতে জনগণ তা জানতে পারে।
ড. আসিফ নজরুল জানান, প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ ২০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। নতুন করে ‘না ভোট’ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো আসনে একজন প্রার্থী থাকেন, ভোটাররা চাইলে ‘না ভোট’ দিতে পারবেন। যদি ‘না ভোট’ বেশি হয়, তাহলে সেই আসনে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যাতে ২০১৪ সালের মতো বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা আর না ঘটে। এ ছাড়া পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে, নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। গণমাধ্যমের কর্মীরা এখন থেকে ভোট গণনার স্থানে উপস্থিত থাকতে পারবেন, যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ করবে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক দলকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দান, অনুদান বা চাঁদা দিতে হলে তা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে। দাতা ব্যক্তিকে তাঁর আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। আগে নির্বাচন কমিশন শুধু কোনো একটি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে সেই কেন্দ্রের ফল বাতিল করতে পারত। এখন থেকে কমিশন মনে করলে পুরো নির্বাচনী এলাকায় অনিয়ম হয়েছে, তাহলে তারা সম্পূর্ণ এলাকার নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা পাবে।