মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

জুলাই সনদ চূড়ান্ত করছে ঐকমত্য কমিশন

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
  • শনিবার আবারও বৈঠক
  • চলতি মাসেই সিদ্ধান্ত জানাবে সরকার
রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের সুপারিশ গতকাল বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করতে পারেনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আগামীকাল শনিবার এ বিষয়ে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছে কমিশন। সুপারিশে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব থাকতে পারে। সুপারিশসংবলিত ওই প্রস্তাব আগামী সপ্তাহের মধ্যে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং  সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব রাজনৈতিক দলগুলোকে সিদ্ধান্ত জানানোর অনুরোধ জানাবে কমিশন।

এ সময় কমিশনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, সুপারিশ চূড়ান্ত করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ শিগগিরই সরকারের কাছে জমা দেওয়া সম্ভব হবে।কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন মোহাম্মদ ইকরামুল হক, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. শরিফ ভূইয়া, ব্যারিস্টার ইমরান সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার তানিম হোসেইন শাওন। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী ভার্চুয়ালি সভায় অংশ নেন।
এ জন্য সরকারকে এ বিষয়ে শক্ত অবস্থান নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে।এ বিষয়ে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক মতামতের ভিত্তিতে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ তৈরি করব। আমাদের বিবেচনার দিক হচ্ছে, এটা বাস্তবায়নে সরকারের দিক থেকে যেন সুনির্দিষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।’কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেবে কমিশন। আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে চায় কমিশন। এই সুপারিশ তৈরি করতে কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পাঁচ দিন বৈঠক করেছে। সেখানে দলগুলো একমত হতে পারেনি। এমন অবস্থায় কমিশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে একটি সুপারিশ তৈরি করবে বলে জানা গেছে। সেখানে জুলাই সনদ নিয়ে বিশেষ আদেশ জারি এবং এর বৈধতা নিতে গণভোট আয়োজনের কথা থাকবে। এ ছাড়া থাকতে পারে পরবর্তী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ভূমিকা দিয়ে সনদের সংবিধান সম্পর্কিত বিষয়গুলো সংবিধানে যুক্ত করা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি ধরে খসড়া আদেশটির নাম হতে পারে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন (সাংবিধানিক) আদেশ’।

সূত্র জানায়, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যেই গণভোট কোন প্রশ্নে হবে, তা উল্লেখ থাকবে। সে ক্ষেত্রে এক বা একাধিক ব্যালটে গণভোটের প্রশ্ন হতে পারে। সেখানে সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও সনদ বাস্তবায়ন চান কি না—এ রকম প্রশ্ন রাখা হতে পারে। আরেকটি হতে পারে, ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন চান কি না, এমন প্রশ্নে গণভোট। আরেকটি হতে পারে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বে (পিআর) উচ্চকক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং সংবিধান ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি জনগণ মানে কি না। তবে গণভোটের সময় নির্ধারণসহ সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব সরকারের ওপর ছেড়ে দেবে কমিশন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা কোন আদেশের মাধ্যমে আহবান করা হবে সেই ড্রাফট তৈরি নিয়ে এখনো কাজ চলমান। বিশেষ করে প্রস্তাবের ড্রাফট এবং একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের আদেশ কোন ক্ষমতাবলে দেবে তার ওপর চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। একই সঙ্গে নোট অব ডিসেন্ট রেখে গণভোট হবে নাকি নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট হবে তা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবের ড্রাফট চূড়ান্ত করতে পারেনি কমিশন। আগামীকাল শনিবার বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে শেষ দিনের আলোচনায়ও দলগুলো মোটাদাগে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিএনপি ও সমমনা কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের পক্ষে অনড়। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপিসহ কিছু দল জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়। গণভোটের প্রশ্ন কী থাকবে, ভিন্নমত থাকা প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন কিভাবে হবে—এসব প্রশ্নেও সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এ পর্যন্ত ওই সনদে বিএনপি, জামায়াতসহ ২৫টি দল স্বাক্ষর করেছে। বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করতে পারে। তবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) চার বাম দলের এই সনদে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com