আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের আগে নভেম্বর মাসের মধ্যেই চীনের অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করার দাবিতে রংপুরের বিভাগের ৫টি জেলায় তিস্তা নদীবেষ্টিত ১০ উপজেলার ৩১টি স্থানে মশাল প্রজ্জ্বলন করে বিক্ষোভ করেছেন লাখ লাখ মানুষ। তিস্তাপাড়ে একসময় হাজারো মানুষের কণ্ঠে ভেসে ওঠে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ সেøাগান। বিএনপি নেতার এই কর্মসূচি বৃহত্তর রংপুরের তিস্তা নদী এলাকায় মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এর আগে একই দাবিতে বছর ৫ অক্টোবর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলায় বিক্ষোভ করে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিএনপি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত ‘স্তব্ধ রংপুর’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটি। কর্মসূচিতে আহ্বানে জানানো হয়েছে। যানবাহন চালকরাও মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ট্রাক, বাস কিংবা ট্রেন ওই সময় গাড়ি থামিয়ে ১৫ মিনিট অবস্থান করবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা ক্লাস গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম বন্ধ রাখবেন। আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাজের সব স্তরের মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছে ১৫ মিনিটের জন্য সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে তিস্তা নদীর অস্তিত্ব রক্ষার এই ঐতিহাসিক কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর জন্য।গত শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই তিস্তা প্রকল্পের কাজ শুরু না হলে কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এ মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদসহ বিভিন্ন সক্রিয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ ভাস্কর্য চত্বর থেকে শুরু হয়ে প্রধান ফটক, বাহাদুর শাহ পার্ক, শাঁখারি বাজার মোড়, রায়সাহেব বাজার মোড় হয়ে পুনরায় বিশ্বজিৎ চত্বরে এসে শেষ হয়। শিক্ষার্থীরা মিছিল ও সমাবেশে বিভিন্ন সেøাগান দেয়Ñ ‘দিল্লি না, ঢাকা ঢাকা’, ‘তিস্তা পাড়ের কান্না, আর না আর না’, ‘জাগো বাহে, কোনঠে সবাই, চলো তিস্তা বাঁচাই’, ‘পানি আমার অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’, ‘তিস্তা নিয়ে টালবাহানা চলবে না’, ‘করো তিস্তা চুক্তি, আমাদের দাও মুক্তি’, ‘তিস্তা শুকিয়ে গেলে, কৃষক কাঁদে ঘরে ঘরে’ এবং ‘ভারত যদি বন্ধু হও, ন্যায্য পানির হিস্যা দাও’Ñ এমনকী আরো নানা প্রতিবাদী বাক্য শোনা গেছে।তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার রাতে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু। উপস্থিত ছিলেন তিস্তা রক্ষা আন্দোলনের নেতা নজরুল ইসলাম হক্কানীসহ অন্য নেতারা।