জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে মনপুরা মিলবে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ
ঢাকা অফিস
আপডেট:
সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫
২৫
বার পড়া হয়েছে
ভোলা
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা উপজেলা। এতে করে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুতের আওতায় আসবে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ। এ জন্য দুটি পরিকল্পনা নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। একটি পাশের উপজেলা তজুমদ্দিন থেকে, অন্যটি চরফ্যাশন থেকে নদীর তলদেশ দিয়ে সরাসরি মনপুরা পর্যন্ত গ্রিড সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে।
এ উপলক্ষে গত শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল মনপুরায় আসে। দিনভর তাঁরা স্থানীয় প্রশাসন ও লোকজনদের মতামত নিয়েছেন। এ সময় কর্মকর্তারা পরিকল্পনা দুটি উপস্থাপন করেন।
দ্বীপের বিদ্যুৎ সংকট দীর্ঘদিনের।ওজোপাডিকো ১৯৯৭ সাল থেকে চারটি ডিজেল জেনারেটরের মাধ্যমে উপজেলা শহরের হাজীরহাট ইউনিয়নের মাত্র ৮৯০ জন গ্রাহককে সন্ধ্যা থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছিল। বর্তমানে দুটি জেনারেটর নষ্ট থাকায় উৎপাদন ক্ষমতা নেমে এসেছে অর্ধেকে। ১৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪২০ কিলোওয়াট। এ অবস্থায় সন্ধ্যার পর মাত্র দুই-তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান তাঁরা।
এদিকে মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নে আড়াই হাজার গ্রাহককে ৩০ টাকা ইউনিট হারে চড়া মূল্যে মিনি সোলারের বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে চরকলাতলী ইউনিয়নকে শতভাগ সোলার সিস্টেমের আওতায় আনা হলেও তা শুধু রাতে ব্যবহারযোগ্য। সোলার, আইপিএস এবং জেনারেটরের মাধ্যমে উৎপাদিত এই বিদ্যুতের জন্য টাকাও গুনতে হচ্ছে বেশি।
শুক্রবার সকালে মনপুরা সরেজমিন পরিদর্শনে এসে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই—মনপুরার মানুষ যেন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পায়।’
অতিরিক্ত সচিব (নবায়নযোগ্য জ্বালানি) কে এম আলী রেজা বলেন, ‘মনপুরা যেহেতু উপকূলীয় ও সূর্যালোকসমৃদ্ধ এলাকা, তাই সৌরবিদ্যুৎ বা হাইব্রিড সিস্টেমের মাধ্যমে এখানে বিদ্যুৎ সরবরাহকে আরো স্থিতিশীল করা সম্ভব।