জানা গেছে, জামায়াতের আমির নির্বাচনের প্রক্রিয়া মোটামুটি দীর্ঘ। সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা দলের রুকনদের গোপন ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়ে থাকেন। তাঁদের ভোটগ্রহণ ও গণনা আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ হবে। ডিসেম্বরেই নতুন আমিরের নাম ঘোষণার পর তিনি শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
জামায়াতের আমির নির্বাচনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাসুম। নির্বাচনী কমিটিতে আরো আছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর আমির নির্বাচন হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সাধারণত ভোটগ্রহণের তিন মাস আগে থেকেই শুরু হয়।’
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল আরো জানান, ‘২০২৬, ২০২৭ ও ২০২৮ সালের জন্য নতুন আমির নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকেন না। মজলিশে শুরা মনোনীত তিন সদস্যের নাম ভোট শুরুর সময় জানানো হয়। তবে রুকনরা চাইলে এই তিনজনের বাইরেও কাউকে ভোট দিতে পারেন।’
জামায়াতের দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আগেও বৈরী পরিবেশে মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন হয়েছে। এমনকি গত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠিন সময়েও আমির নির্বাচন থেমে থাকেনি, তখন নির্বাচন হয়েছে অনলাইনে।’
জানা যায়, দলটি এখনো নির্ধারণ করেনি কোন জেলায় কখন ভোট হবে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা শেষ করা হবে।
দলের বর্তমান আমির ডা. শফিকুর রহমান ১৯৯৮ সালে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। এরপর সিলেট মহানগর আমির, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এবং পরে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ডা. শফিকুর রহমানের আগে দলের আমির ছিলেন মকবুল আহমদ (২০১৮-২০২০)। তিনি ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তাঁর আগে আমির ছিলেন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, যিনি ২০০০ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, জামায়াতের আমির দলের রুকনদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হলেও সেক্রেটারি নির্বাচিত হন আমিরের পছন্দে। অর্থাৎ দলের আমির নিজের পছন্দমতো কাউকে সেক্রেটারি মনোনীত করে থাকেন।