মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বেআইনি ও কারো পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেব না

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশে কাজ করা খুবই ডিফিকাল্ট। পার্টিকুলারলি যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে দেশটা যাচ্ছে, আপনার কাজ আদায় করে নেওয়া কিছু কিছু পক্ষের লোকের জন্য খুবই সুবিধা, আর বেশির ভাগ পক্ষের লোকের জন্য ডিফিকাল্ট। এই সিচুয়েশনে এখন দেশ দাঁড়িয়ে আছে।

 সিইসি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো রকমের অন্যায় নির্দেশনা দেব না। আমরা কারো পক্ষে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেব না। আমাদের নির্দেশনা হবে সম্পূর্ণ আইনানুগ, বিধি মোতাবেক সঠিক কাজটি সঠিকভাবে করা এবং আমার নিশ্চিত করব যে আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি।কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যায় আবার কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা যায় না। অনেক চ্যালেঞ্জ বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, সেগুলো আমরা সামাল দিচ্ছি। সামাল দিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’তিনি আরো বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বারবার বলেছেন, আমি একটা ঐতিহাসিক নির্বাচন বাংলাদেশে করব। আমাদের ওপর আস্থা আছে বলেই কিন্তু তিনি প্রতিনিয়ত এই কথা বলে যাচ্ছেন আমাদের এই আস্থাটা, উনার বিশ্বাসটা ধরে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক নির্বাচনটা একটা বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সুতরাং আমাদের বিশেষভাবেই এটা মোকাবেলা করতে হবে। বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই নির্বাচনকে আমাদের এগিয়ে নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করা নির্বাচন কমিশনের ওপর পবিত্র আমানত। এই আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশন কিংবা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জড়িতরা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে ইহকাল ও পরকাল সব জায়গায় জবাবদিহি করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনের ব্যাপারে মানুষের অনেক অনীহা। নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে অনেক অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নির্বাচন কমিশনের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই এখন ভালো নির্বাচন করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প নেই।’

নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ বলেন, ‘জেন্ডারবান্ধব নির্বাচন করব। নারীদের আমরা গুরুত্ব দেব। কেননা ওই এক দিনই কেবল নারীরা গুরুত্ব পায়। সমান অধিকার পায়।’

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সারা বিশ্বে নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে এখন আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। আমরা আশাবাদী যে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনের যে সাংগঠনিক কাঠামোটি দাঁড়াবে সেটি বিশ্বের একটি মডেল হিসেবে দাঁড়াবে।’

নির্বাচন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশনের বয়স ১০ মাস ১০ দিন। এই ১০ মাস ১০ দিনে নির্বাচন কমিশন প্রমাণ করেছে যে এই কমিশন শক্ত মেরুদণ্ড নিয়েই কাজ করছে। কঠিনভাবে বলছি, দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি, আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি, এই নির্বাচন কমিশনের মেরুদণ্ড যদি দুর্বল হয়, এই নির্বাচন কমিশনের যদি মেরুদণ্ড না থাকে তাহলে কোনো নির্বাচন কমিশনের কী ধরনের মেরুদণ্ড হবে আমি জানি না, আমি বুঝি না। এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কারো প্রতি অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে কোনো কাজ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। সুতরাং এর অংশীদার হিসেবে আপনাদের কাছেও আমাদের অনুরোধ থাকবে পেশাদারির সঙ্গে আমরা কাজ করব।’

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলন হওয়ার ১ নম্বর কারণ হচ্ছে পচা নির্বাচন বা নির্বাচনের নামে প্রহসন। আমরা যদি এখান থেকে বের হতে চাই তাহলে প্রথমে প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে আর কখনো আমরা এ ধরনের নির্বাচন করব না।’

মাঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ‘এই নির্বাচন কমিশন আপনাদের কখনোই পক্ষপাতিত্বমূলক দুষ্ট কোনো নির্বাচনের নির্দেশনা দেবে না। আপনারা যদি স্বতঃপ্রণোদিতভাবে কারো অংশ হয়ে কাজ করেন সেই দায়িত্ব আপনাদের এবং নির্বাচন কমিশন আপনাকে কোনোভাবে কোনো আশ্রয় দেবে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো চাপ, কোনো নির্দেশনা, কোনো ধরনের ইনিয়ে-বিনিয়ে কথা বলা হবে না। আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন হতেই হবে।’

ভোটার তালিকার বিষয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা নিয়ে কাজ করার আগে আমাদের পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৯ লাখ কম। আমরা সচেতনতা সৃষ্টির পরও এখন পর্যন্ত পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ কম। আমাদের মাঠ পর্যায়ে এটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এখন পর্যন্ত আমাদের তালিকায় প্রচুর পরিমাণে মৃত ভোটার আছে। এটা নিয়েও কাজ করতে হবে।’ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ মনির হোসেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব ও অন্যান্য নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com