চারদিকে শোকের ছায়া। দলে দলে লোক আসছে। সবার চোখেই বিষণ্নতা। অনেকেই অশ্রুসজল। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বায়তুস সোবহান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষ। এঁদের মধ্যে আছেন সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদদের অনেকে। আছেন আত্মীয়পরিজন আর অসংখ্য গুণগ্রাহী। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেক পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর জানাজায় এসেছেন সবাই। এসেছেন রুহের মাগফিরাত কামনা করতে। এসেছেন হৃদয়ের গভীর ভালোবাসার নজরানা পেশ করতে।
গতকাল সকাল হতেই বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে সংবাদটি। ক্রীড়াঙ্গনের কিংবদন্তি আবদুস সাদেক আর নেই। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ত্যাগ করেছেন নশ্বর এই পৃথিবী। শোকের ছায়ায় ঢাকা পড়ল ক্রীড়াঙ্গন। চারদিক থেকে ছুটে এলো শোকবার্তা। এরপর শুরু হলো শেষবিদায়ের প্রস্তুতি। গতকাল বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অনুষ্ঠিত জানাজায় উপস্থিত হলেন অনেকে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত বায়তুস সোবহান জামে মসজিদে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন মুফতি আলকামা বিন জাফর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-মরহুমের ভাই ও শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান, আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান, সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এসবিজি) চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান, সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের (এসবিজি) চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান, তানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান, আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ওয়ালিদ সোবহান, সানভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এসবিজি) ভাইস চেয়ারম্যান এমিল আহমেদ সোবহান, মরহুমের বড় ছেলে ও টি-স্পোর্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইশতিয়াক সাদেকসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী, বসুন্ধরা গ্রুপের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী। ইশতিয়াক সাদেক জানাজার আগে বললেন, ‘আমার বাবা আজ (গতকাল) সকাল আনুমানিক ৬টা ৪৫ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন। তিনি অনেক হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। তারপরও কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে ক্ষমা করে দিবেন। কারও কোনো পাওনা থাকলে জানাবেন, আমরা পরিশোধ করে দিব। আর মনভরে সবাই দোয়া করবেন।’ আজ সকাল সাড়ে ১০টায় ওল্ড ডি ও এইচ এসে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
আবদুস সাদেকের জানাজায় এসেছিলেন ফুটবল ও হকির আরেক কিংবদন্তি প্রতাপ শংকর হাজরা। তিনি বললেন, ‘উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় হকি তারকাদের একজন ছিলেন আবদুস সাদেক। তাঁর তুলনা শুধু তিনিই। পাকিস্তান দলে স্থান করে নিয়েছিলেন। সেখানে এমন খেলাই খেলেছেন, তিনি আমাদের গর্ব, দেশের গর্ব হয়ে উঠেছেন।’ এ ছাড়া হকি ফেডারেশনের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক হকি খেলোয়াড় খাজা মানজার নাদিম বলেন, ‘আবদুস সাদেক হলেন বাংলাদেশের সত্যিকারের কিংবদন্তি। তাঁর মতো হকি খেলোয়াড় আর জন্মায়নি। বাংলাদেশে আর কখনো জন্মাবে কি না জানি না। তিনি কেবল অসাধারণ হকি ক্রীড়াবিদই নন, একজন চমৎকার মানুষও ছিলেন।’ সাবেক হকি খেলোয়াড় রফিকুল ইসলাম কামাল বলেন, ‘তিনি ছিলেন বড় মাপের খেলোয়াড়। কিন্তু তিনি তাঁর চেয়েও বড় মাপের মানুষ ছিলেন।’ ক্রীড়াঙ্গনের অন্যদের মধ্যে জানাজায় এসেছিলেন বসুন্ধরা কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় ও বিসিবির সাবেক জেনারেল সেক্রেটারি সৈয়দ আশরাফুল হক, বিসিবির সাবেক প্রধান নির্বাচক মাইনুল হক মাইনু এবং বিসিবির সাবেক পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু।
এ ছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক আবু তাহের, যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হাসানসহ বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার, কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মেহেদী হাসান তালুকদার, নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী, বাংলানিউজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ডেইলি সান সম্পাদক রেজাউল করিমসহ নিউজটোয়েন্টিফোর, রেডিও ক্যাপিটাল, টি-স্পোর্টসের সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানাজায় যোগ দেন।
আবদুস সাদেকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন যুব ও প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ ছাড়া শোক প্রকাশ করেছে-বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন, অলিম্পিক সংস্থা, বসুন্ধরা কিংস, ঢাকা আবাহনী, ঢাকা মোহামেডান, গোপীবাগ ফ্রেন্ডস ক্লাব, বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট কমিউনিটি, বাংলাদেশ ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা, বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতিসহ অন্য সংগঠন।








