জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে লোক এনে জড়ো করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ।
জামালপুর ও কুড়িগ্রাম সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে লোক এনে জড়ো করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ।
দেশের বিভিন্ন এলাকার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
জামালপুর : বিজিবি ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে আবারও বিএসএফের পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের রৌমারীর সীমান্তের আটটি পয়েন্টে ট্রাকে করে লোক আনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তারা পুশ ইনের চেষ্টা চালালেও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয়দের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার খেয়ারচর, পাথরেরচর, বাঘারচর, ঝাউডাঙ্গা, সাতানীপাড়া এবং রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা, মোল্লারচর ও ইসলামারী সীমান্ত পয়েন্টে বিএসএফ সীমান্তের আলো নিভিয়ে ট্রাকযোগে লোকজন নিয়ে আসে। তাদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হলে বিজিবি ও স্থানীয়রা বাধা দেয়। ফলে পিছু হটে বিএসএফ।
জামালপুর ব্যাটালিয়নের (৩৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। রাতে পুশ ইনের চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। স্থানীয়রাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
রাজিবপুর-রৌমারী (কুড়িগ্রাম) : রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ ইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এপারে যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের আলো এবং সতর্ক অবস্থানের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত উপজেলার ভুন্দুরচর, উত্তর বারবান্দা, বড়াইবাড়ী, ঝাউবাড়ী, বকবান্ধা ও খেয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানার নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি আসামের মানকারচর থানার অধীন কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকায় শতাধিক মানুষকে জড়ো করা হয়েছে। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের কঠোর অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে এলাকাবাসী বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক ইমাম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে রৌমারী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের পুশ ইনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় বিজিবি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি প্রস্তুত।
হবিগঞ্জ : বিজিবি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে পুশ ইনের চেষ্টা চললেও এখনো হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে কোনো অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় জনগণ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপিকে সঙ্গে নিয়ে সীমান্তে কড়া নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়েছে। থার্মাল ও ইনফ্রা রেড ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি জনসচেতনতা কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান জানান, প্রতিটি বিওপিতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।