চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়েছেন আদালত। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার অভিযোগ গঠনের দিন রাখা হয়েছে।
গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা এ আদেশ দেন। এ সময় মনির হোসেন ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মাগুরার শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আপিল শুনানির জন্য প্রস্তুত করা পেপারবুক (মামলাবৃত্তান্ত) বিজি প্রেস থেকে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। বর্তমানে নথিপত্র যাচাই-বাছাই চলছে। শিগগিরই শুনানি হবে বলে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, বাকলিয়ার শিশু ধর্ষণের মামলায় পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। মামলার ২২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য অল্প সময়ের সময়ের মধ্যে শেষ করতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে। গত বৃহস্পতিবার আদালতের প্রশিকিউশন শাখায় পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে।
অভিযোগপত্রে পুলিশ উল্লেখ করে, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার আসামি মনির হোসেন কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করছেন।
গত ২১ মে বিকেলে বাকলিয়ার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি গুদামে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক তানভীর আহমেদ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ঘটনার পর আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়ার সময় একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ ঘটনায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা করে পুলিশ।
মাগুরার শিশু হত্যা মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে
হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার ইনচার্জ নুরুল ইসলাম গতকাল সোমবার জানান, মাগুরার শ্রীপুরের শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সাজা পাওয়া প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আসামির আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক ইতোমধ্যে হাইকোর্টের রেফারেন্স শাখায় এসেছে। এখন এটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ে পাঠানো হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুকটি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর তিনি মামলাটির শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেওয়ার পর শুনানি শুরু হবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত মামলা শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। বিশেষ বেঞ্চেই রাজধানীর পল্লবী ও মাগুরার শ্রীপুরের শিশুর মতো চাঞ্চল্যকর হত্যা ও ধর্ষণ মামলার শুনানি হবে।
মাগুরার শ্রীপুরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গত বছরের ১৭ মে রায় দেন মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে শিশুটির বোনের স্বজন হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। পরে আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ যাবতীয় নথি ২০২৫ সালের ২১ মে হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছায়, যা ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, নিম্ন আদালতে কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে সেই দণ্ড কার্যকর করার আগে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। এ প্রক্রিয়াকে ‘ডেথ রেফারেন্স’ বলা হয়। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল করার সুযোগ পান।
মাগুরার শ্রীপুরের শিশু হত্যা মামলার পেপারবুক হাইকোর্টে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।