মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে বিপর্যয়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

কোরবানির পশুর চামড়ার দামে বিপর্যয় নেমে এসেছে। গতবারের মতো এবারও নামমাত্র মূল্যে গরু-মহিষের চামড়া বিক্রি হয়েছে। এক কাপ চায়ের দামে মিলেছে ছাগলের কাঁচা চামড়া। দেশের কিছু এলাকায় আবার কোনো ক্রেতাই যায়নি চামড়া কিনতে। বিক্রি করতে না পেরে শত শত কাঁচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। ট্যানারি মালিকরা কাঁচা চামড়া পুঁতে ফেলার বিষয়টিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলছেন। তবে তারা স্বীকার করেছেন, পর্যাপ্ত ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় চামড়া কিনতে আগাম অর্থ দিতে পারেননি ব্যবসায়ীদের। তারল্য সংকটের কারণে অনেকে কাঁচা চামড়া কিনতে পারেননি। গাইবান্ধার তুলশিঘাটের বাসিন্দা জুলকার নাইন ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এবার ঈদে গ্রামের বাড়িতে গরু কোরবানি দেওয়ার পর সারা দিন অপেক্ষা করেছেন চামড়া নিয়ে। কেউ তার কোরবানির পশুর চামড়া কিনতে আসেননি। ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি জানান, ক্রেতা দূরের কথা মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা থেকেও কেউ আসেনি চামড়া সংগ্রহ করতে। শেষে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে সেই চামড়া।

চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলার সবচেয়ে বিপর্যয়কর ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার বুড়িরচংয়ে। ইছাপুর নামে একটি গ্রামের কোরবানির পশুর ২০০ চামড়া বিক্রি করতে না পেরে শেষে মাটি চাপা দিতে বাধ্য হয়েছেন গ্রামবাসী। স্থানীয়রা জানান, গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত ছিল কোরবানির পশুর চামড়া ঈদগা মাঠে একত্রিত করে বিক্রি করা হবে। বিক্রয়কৃত অর্থ স্থানীয় মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানায় দান করা হবে। তবে সারা দিন না ব্যবসায়ী, না এতিমখানা- কেউ সেই চামড়া নিতে যোগাযোগ করেনি ইছাপুর গ্রামবাসীর সঙ্গে। শেষে ভেকু এনে মাটি চাপা দেওয়া হয় ২০০ পশুর চামড়া। লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নের রামনগর মাদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ১৫০টি চামড়া সংগ্রহ করেছিল। তবে কোনো ক্রেতা যোগাযোগ না করায় সেই চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

সারা দেশের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও চামড়া বিক্রি হলেও দাম ছিল খুবই কম। অনেকে নামাকাওয়াস্তে প্রতীকীমূল্যে চামড়া নিয়ে গেছেন। অনেক এলাকা থেকে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করলেও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে লোকসানে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, তিনি মৌসুমি ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছেন চামড়ার বাজার নিয়ে। তারা জানিয়েছেন, এবার বিপর্যয় নেমে এসেছে চামড়া ব্যবসায়। ট্যানারি মালিকরা আগের বকেয়া পরিশোধ না করায় অনেকে অনিশ্চয়তা নিয়ে চামড়া কিনলেও লাভের মুখ দেখেননি। আবুল বাশার নামের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আসা এক মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, ঈদের পরদিন শুক্রবার হওয়ায় সকালে অনেক আড়ত বন্ধ ছিল। যেসব আড়ত খোলা, তারা কম দাম দিয়েছে। ফলে তারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম সিদ্দিকী বলেন, লাম্পিসহ ত্রুটিপূর্ণ চামড়ার ব্যাপারে আমরা আগেই ফড়িয়া ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছি। তবু যারা ত্রুটিপূর্ণ চামড়া কিনেছেন, তারা দাম পাবেন না, এটাই স্বাভাবিক। বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাজারে কোরবানি পশুর চামড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিতে চামড়ার চাহিদা না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী ও মাদ্রাসাগুলো। দিনাজপুর প্রতিনিধি জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া না পাওয়ার পরেও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনাজপুরে চামড়া ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন। জেলার ফুলবাড়ীতে নামমাত্র মূল্যে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে। গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ছিল ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে এক কাপ চায়ের দামে, অর্থাৎ মাত্র ৫-১০ টাকায়। দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সদস্যসচিব আবেদ আলী বলেন, এবার পর্যাপ্ত চামড়ার আমদানি হলেও আমরা টাকার অভাবে কিনতে পারেনি।

সারা দেশের মতোই রাজধানী ঢাকাতে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কম ছিল। তবে রাজধানীবাসী মফস্বলের তুলনায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম কিছুটা বেশি পেয়েছেন। এর কারণ, ট্যানারি মালিকরা রাজধানী থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দিন বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল, ধানমন্ডি, সায়েন্স ল্যাব এবং লালবাগের পোস্তা এলাকায় ছোট আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ২০০ থেকে ৪০০ টাকায়, মাঝারি আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ৫০০-৬০০ টাকা এবং বড় আকারের গরুর কাঁচা চামড়া ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

ট্যানারি মালিক সমিতির সভাপতি শাহিন আহমেদ জানান, এবার চামড়া কিনতে তারল্য সংকট ছিল। ব্যাংকগুলো আগে ৪০০ কোটি টাকার মতো ঋণ দিলেও এবার মাত্র ৬৫ কোটি টাকা দিয়েছে। ফলে চামড়া কিনতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ করা যায়নি। তিনি জানান, ঢাকা থেকে তারা সরাসরি ৬ লাখ পিসি চামড়া সংগ্রহ করেছেন। এ ছাড়া পোস্তাগোলার ব্যবসায়ীরাও ৩ থেকে ৪ লাখ পিস কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে লবণ দিচ্ছেন।

রাজধানীর বাইরের দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা চামড়া আরও দুই থেকে তিন দিন পর ঢাকায় ঢুকবে বলে জানান তিনি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com