মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দ্রুত বিচারের আশ্বাস সরকারের রামিসা হত্যাকাণ্ড

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ছোট্ট রামিসার জন্য কাঁদছে পুরো দেশ। গতকালও রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ হয়েছে। খুনির প্রকাশ্যে মৃত্যুদ-ের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরে। মানবন্ধন হয়েছে গুলশান সোসাইটিতে। ঢাকাসহ সারাদেশে একই দাবিতে বিক্ষোভ মানববন্ধনে সমাজের বিবেকমান মানুষ অংশ নেন। বিশেষ করে শিশু সন্তানদের অভিভাবকরা আতঙ্কিত। তারা বলেন, রামিসা জীবন দিয়ে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকার ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন। গতকাল শুক্রবার বেলা পৌনে তিনটা থেকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্ত্বর এলাকায় ‘এলাকাবাসীর ব্যানারে’ কয়েক শ মানুষ জড়ো হয়ে শিশু হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এ সময় মিরপুর সড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে বেলা সোয়া দুইটা থেকে শিশুটির বাসার কাছে মানববন্ধনের আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শিশুটি যে স্কুলে পড়াশোনা করত সেই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মানববন্ধনে আয়োজকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও অংশ নিয়েছেন। এদিকে ঢাকায় যখন বিক্ষোভ চলছিলো, রামিসার কুলখানিতে অংশ নিতে তার বাবা-মা তখন গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। যেখানে রামিসাকে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দ্রুত এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই রাতে রামিসার বাসা থেকে বের হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আগামী রোববার (কাল) এ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়া হবে।

গতকাল শুক্রবারও দিনভর ছিলো পল্লবীতে রামিসাদের বাসার সামনে হাজারো শোকার্ত মানুষের ঢল। চোখে-মুখে ক্ষোভ আর শোক নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন তারা। এলাকাজুড়ে একটাই দাবি দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধীদের বিচারের দাবিতে যখন পল্লবীবাসীর ক্ষোভ আরও তীব্র হচ্ছে, ঠিক তখনই রামিসার কুলখানিতে অংশ নিতে গ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হন পরিবারের সদস্যরা। কয়েকদিন পরই হয়তো বাবা-মা ও বোনের সঙ্গে ঈদুল আজহা উদযাপনের জন্য বাড়ি ফেরার কথা ছিল ছোট্ট রামিসার। কিন্তু এবারের ঈদে আর ফেরা হবে না তার।

যে শিশুটি ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার কথা ছিল, সেই রামিসাকে ঘিরেই এখন স্বজনদের কান্না আর বিচার দাবিতে মানুষের ক্ষোভ। বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ চলার মধ্যেই গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রামিসার একটি প্রাইভেটকারে গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোট্ট রামিসার কুলখানিতে অংশ নিতেই স্বজনরা গ্রামে গেছেন। বুধবার এশার নামাজের পর মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুরা ইউনিয়নের মধ্যম শিয়ালদী গ্রামে মোল্লাবাড়ির বায়তুল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দাদা-দাদির কবরের পাশে রামিসাকে দাফন করা হয়।

এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেয়া নাজনীন নামে এক গৃহবধূ বলেন, আমরাও সন্তান নিয়ে বসবাস করি। এখন নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে দেশে এমন অপরাধ আরও বাড়বে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষের দাবি, ধর্ষণ ও শিশু হত্যার মতো অপরাধে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই এ ধরনের অপরাধীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদ- কার্যকরের দাবি জানান।

এদিকে গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রামিসার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা আগেও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিল। তার অতীত কর্মকাণ্ড ভালো ছিল না। শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডে দায়েরকৃত মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, রামিসা প্রতিদিন মাত্র ১০ টাকা চাইত। ওই টাকা দিয়ে টিফিন খেত। ছোট ছোট আবদার ছিল তার। এরপর আর কোনো কথা বলতে পারেননি তিনি। শুধু নীরবে চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছিলো অশ্রু। রামিসার কথা স্মরণ করে তার স্কুলের বাংলা বিষয়ের শিক্ষিকা মালিহা ইসলাম বলেন, রামিসা খুব মেধাবী, চঞ্চল আর ভীষণ প্রাণবন্ত ছিল। ক্লাসে সামনের বেঞ্চে বসত। দেখা হলেই বলত, মিস, আপনাকে সুন্দর লাগছে। এমন নিষ্পাপ একটা মেয়ের এমন পরিণতি কখনও কল্পনাও করিনি।

মিরপুরের পপুলার মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রামিসা শুধু মেধাবীই ছিল না, ছিল স্বপ্নে ভরা এক শিশু। তিনি জানান, প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় বাংলা বিষয়ে ৯০, ইংরেজিতে ৯৩, গণিতে ৯৫.৫, ধর্মে ৯৫ এবং ড্রইংয়ে ৯৬ নম্বর পেয়েছিল রামিসা। পরীক্ষার খাতা দেখাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক। তিনি বলেন, ড্রইং পরীক্ষায় রামিসা কাবা শরিফ এঁকে তার বাবাকে বলেছিল, আমাকে কিন্তু এখানে নিয়ে যাবে। বাবা বলেছিলেন, সুযোগ হলে নিয়ে যাব। সেই স্বপ্ন এখন শুধু স্মৃতি।

রামিসার মা বলেন, অভিযুক্ত সোহেল রানাদের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কোনো ধরনের সম্পর্ক বা পূর্ব পরিচয় ছিল না। তারা কয়েক মাস আগে ভাড়া এলেও কোনোদিন তাদের সঙ্গে কথা হয়নি। জানা যায়, যে ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে, সেই ভবনের মালিক বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতে ভবনটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন কেয়ারটেকার। এছাড়া রামিসা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানা স্থানীয় একটি রিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ: গত বৃহস্পতিবার রাতে রামিসার বাসা থেকে বের হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, পুলিশ ডিপার্টমেন্ট দ্রুততার সঙ্গে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। আসামি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী করেছে। এখন চার্জশিট দেওয়ার পালা। চার্জশিট দেওয়ার আগে ডিএনএ টেস্টটা করতে হবে। ডিএনএ টেস্টের জন্য আমাদের সিআইডি ল্যাবে অলরেডি আদালতের অনুমতি নিয়ে চেষ্টা চলছে। ডিএনএ টেস্টের নিয়ম হচ্ছে যে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে, যেহেতু এটা বৈজ্ঞানিক বিষয়। সেটা শেষ হবে রোববারের দুপুরের মধ্যে। আমরা রোববারের মধ্যে ইনশাআল্লাহ আদালতে চার্জশিট দাখিল করতে পারব এবং তারপর অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে বিচার কার্য নিষ্পন্ন হয় সেজন্য আমরা চেষ্টা করব, যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায় সেজন্য আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্টমন্ত্রী বলেন, পরিবার চেয়েছে সুষ্ঠু ন্যায়বিচার, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটা পরিবারের এক নম্বর চাওয়া এবং সেটাই স্বাভাবিক। তারপরে তার যে অন্য কন্যা সন্তান আছে, সে যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, পড়াশোনা করতে পারে, উন্নত জীবন পায় সেজন্য সহায়তা চেয়েছেন। সেটা প্রধানমন্ত্রী ব্যবস্থা করবেন। গ্রেফতার এবং আমাদের আইনি পদক্ষেপ গুলোতে এখন পর্যন্ত তারা সন্তুষ্ট।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে সকাল ১০টার দিকে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানা ছোট্ট রামিসাকে টেনে নেয় নিজের কক্ষে। এরপর শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে গলাকেটে হত্যা করে। বাইরে থেকে রামিসার মা দরজা ধাক্কালে সোহেল পেছনের জানালা ভেঙ্গে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ওই কক্ষে গিয়ে রামিসার লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় সোহেল রানার স্ত্রীকে ঘটনাস্থল থেকে এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যেই প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সোহেল রানা পরদিন নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

 


বিভাগ : জাতীয়

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com