রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রী আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, শোক ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকা-ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। সারা দেশের মানুষ চোখে-মুখে ক্ষোভ আর শোক নিয়ে নির্যাতন ও হত্যার বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। সবার একটিই দাবিÑ দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এরই মধ্যে গত ২১ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার বাসায় গিয়ে তার পরিবারকে সান্ত¦না দিলেন এবং এই নৃশংস ঘটনার দ্রুত বিচারেরও আশ্বাস দিয়েছেন। গতকালও বিএনপির নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের উদ্যোগে সেলিমা রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে। এর পর সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসা হত্যাকা-ের বিচারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। রাষ্ট্র যখন এই হত্যার বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন জনগণ আশা করছে খুব দ্রুতই অপরাধীদের বিচার হবে এবং এর মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের বিশ্বাস পুনরুদ্ধার হবে।
তারপরও থামছে না মানুষের ক্ষোভ। গতকালও রামিসার বাসার সামনে হাজার হাজার ক্ষুব্ধ মানুষ জড়ো হয়ে দ্রুত বিচার দাবি জানিয়েছে। রাজধানীর প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী ছাত্রী সংস্থাসহ আরো কয়েকটি সংগঠন বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে। রাজধানীর অন্যান্য স্থানে খেলাঘর এবং আরো কয়েকটি সামাজিক ও রাজনৈতিক দল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে। ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও বিক্ষোভ প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। অনেকে বলছেন প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এ নৃশংস হত্যাকা-ের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিলেও মানুষ তাতে আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ এক বছর আগে মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়ার নির্মম হত্যাকা-ের কথা মানুষ এখনো ভুলতে পারেনি। গত বছরের মার্চ মাসে এই শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল পুরো বাংলাদেশ। এরপর এখন পর্যন্ত ওই হত্যাকা-ের বিচার সম্পন্ন হয়নি। রামিসার বাসার সামনে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দা সিনথিয়া। তিনি বলেন, যে অপরাধী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে, তাকে কেন সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে না? সরকার যদি এই অপরাধের বিচার করতে না পারে, তাহলে জনগণের হাতে তুলে দিক। ধর্ষক ও হত্যাকারীদের বিচার জনগণ করবে। আর কত শিশু এভাবে প্রাণ হারালে সঠিক বিচার নিশ্চিত হবে? আমরাও সন্তান নিয়ে বসবাস করি। এখন নিজের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও আতঙ্কে আছি। একটি শিশুকে এত নির্মমভাবে হত্যা কোনো মানুষ করতে পারে না। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে দেশে এমন অপরাধ আরো বাড়বে।
শুধু পল্লবীতে রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা নয়, গত এক মাসে দেশে আরো অন্তত তিনটি শিশু এ ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছে। এই শিশুদের প্রত্যেকেরই বয়স চার থেকে ১০ বছরের মধ্যে। গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের এক দিন পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালিন জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই ঘটনার দুদিন পরে ১৬ মে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৯ মে, পাবনার চাটমোহরে টাকার প্রলোভন ও ঘর ঝাড়ু দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে বলেও গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি-এইচআরএসএস নামের একটি মানবাধিকার সংগঠন স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে নেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানায়, ৬ মে সিলেটের জালালাবাদে চার বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গত মার্চ মাসে চট্টগ্রামের সীতাকু-ের পাহাড়ি এলাকায় একটি শিশুর রক্তাক্ত ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। ওই শিশুটিও ধর্ষণচেষ্টার শিকার ও পরে শ্বাসনালী কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এইচআরএসএস মানবাধিকার সংগঠনটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৫৮০ জন শিশু ধর্ষণ এবং ৩১৮ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে।
দেশে এমনভাবে বাড়তে থাকা শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো এমন জঘন্য ঘটনার কারণ কী এবং তা প্রতিরোধের উপায় কী। এ বিষয়ে অপরাধ বিজ্ঞানী এবং দেশের আলেম-ওলামা ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, আমাদের ভয়াবহ নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা ঘটছে। দীর্ঘদিনের বিদেশি অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, সামাজিক অবক্ষয়, দায়িত্বহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পতনের কারণেই এমন অপরাধ বাড়ছে। এ অপরাধ প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি এ জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন। পরিবার থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষায় প্রতিটি শিশুকে গড়ে তোলা জরুরি। শিশুদের মানবিকতা, দায়িত্ববোধ ও নারীর প্রতি সম্মান শেখাতে হবে। এই যে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় তা প্রতিরোধ করা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, পরিবার, গণমাধ্যম ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সমন্বয়ে সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক বলেন, সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাবে এই জঘন্য অপরাধ বেড়েছে। আল্লাহ ইনসানকে ইসলামের নিয়ামত দান করেছেন। ইনসান যদি পশুত্বের পরিচয় দেয় তাহলে জাহান্নামের পথ প্রশস্ত হয়। যে সমাজে পর্দার বিধান নিয়ে উপহাস করা হয়, সে সমাজে শান্তি আসতে পারে না। ওহির এলেম বাদ দিয়ে সমাধান হবে না। ওহির এলেম বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সুস্থ সমাজ উপহার দেয়া সম্ভব। পশ্চিমা সংস্কৃতি দিয়ে শিক্ষাকারিকুলাম তৈরি করলে সুস্থ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে না। আমাদেরকে ইসলামের আলোকে সমাজ গঠন করতে হবে। শিশুদেরকে ইসলামী মূল্যবেধে গড়ে তুলতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংস ঘটনা যে হারে বাড়ছে তা গভীর উদ্বেগজনক। ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন, মাদকের সহজলভ্যতাÑ সব মিলিয়ে এই ভয়াবহ সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি। এ ছাড়া এসব হত্যার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় শিশুহত্যা দিন দিন বাড়ছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রÑ সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব শায়খুল হাদিস মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করার লোমহর্ষক ঘটনায় গোটা দেশ স্তম্ভিত। সব অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভীষণ শঙ্কিত। বর্বরযুগীয় এ রকম নির্দয়তা দেশবাসীকে দেখতে হতো না যদি আগেরকার এ রকম দুর্ঘটনাগুলোর সর্বোচ্চ শাস্তিটা দ্রুততার সাথে দৃশ্যমান হতো। এ কারণেই খুব যৌক্তিকভাবে আমরা বিচার ব্যবস্থা সংস্কার প্রসঙ্গে কমিশনে প্রস্তাব করেছিলাম যে, এ সব বিষয়ে বিচার ব্যবস্থায় একটি পৃথক শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা করা হোক। আমরা এখনো মনে করিÑ এ রকম বর্বরতা বন্ধে একমাত্র ইসলামী বিধানই অধিকতর কার্যকর।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট এলিনা খান বলেন, পারিবারিক সহিংসতা কমাতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন আইন হয়েছে। শুধু আইন হলেই হবে না, আইনের প্রয়োগ দরকার। সেই সাথে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সংবাদদাতা জানান : রামিসা, আছিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সোনারগাঁ উপজেলা খেলাঘর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ প্রেস ক্লাবের সামনে গতকাল মানববন্ধনে খেলাঘরের সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। পরে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে।
খেলাঘরের সংগঠক মাহবুবুল ইসলাম সুমনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেনÑ হাসি আলম, সাধারণ সম্পাদক রাজা রহমান, শিশুসাহিত্যিক ও সিসিমপুরের সাবেক কান্ট্রিডিরেক্টর শাহ আলম, খেলা ঘরের সদস্য কাজী নাজমুল ইসলাম লিটু, উপজেলা উদীচী সভাপতি শঙ্কর প্রকাশ, সোনারগাঁ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক রবিউল হুসাইনসহ অনেকে।
কিশোরগঞ্জ জেলা ও ভৈরব উপজেলা সংবাদদাতা জানান, জুমার নামাজ শেষে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে তৌহিদি জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ধর্ষক ও খুনিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকরের দাবিতে বিভিন্ন স্লেøাগান দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা উত্তর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বরকত উল্লাহ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের দায়িত্বশীল তামজিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক, কিশোরগঞ্জ জেলা জুলাই আহতদের ছাত্র প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম নাদিমসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লি। এদিকে রামিসাকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও হত্যাকা-ের দ্রুত বিচার এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম আলো বন্ধুসভা। ভৈরব পৌর শহীদ মিনার চত্বরে এ দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। ভৈরব প্রথম আলো বন্ধুসভার সভাপতি জান্নাতুল মিশু নেতৃত্বে এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে রামিসা হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোয়ালন্দ বন্ধু সভার আয়োজনে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে বিভিন্ন পেশার মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বন্ধু সভার সভাপতি মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে প্রপার হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক শফিক ম-লের সঞ্চালনায় মানববন্ধনের বক্তব্য রাখেন গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সুলতানুল ইসলাম মুন্নু, জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি ও সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল কে মুহিত হীরা, সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষক আ. আউয়াল, গোয়ালন্দ রাবিয়া ইদ্রিস মহিলা কলেজের প্রিন্সিপাল আ. কাদের শেখ, রাজবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষক সুজিত, ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী মো. মকিম ম-ল প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর থেকে জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদের গেইটের সম্মুখে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে প্রথম আলো বন্ধুসভা। মানববন্ধনে বন্ধুসভার সদস্য, উপদেষ্টা, নিহত রামিসার পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে নালিতাবাড়ী বন্ধুসভার সভাপতি অভিজিৎ সাহার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তব্য রাখেন নিহত রামিসার চাচা লিমন মোল্লা, নবরুপী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠির সভাপতি জয়জিৎ দত্ত শ্যামল, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নালিতাবাড়ীর সাধারণ সম্পাদক মুনীরুজ্জামান, আইনজীবী ইয়াসমিন আক্তার, টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর নাজমুল হক, সাংবাদিক আবদুল মোমেন, বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসাইন প্রমুখ।
ফরিদপুর জেলা সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখা। গতকাল শহরের প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রামিসা হত্যাকা-ের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, সদস্য সচিব সজল, যুগ্ম-আহ্বায়ক বৈশাখী ইসলাম বর্ষা, মুখ্য সমন্বয়ক রাতুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জনি বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ও সহ-সভাপতি, বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, সাধারণ সম্পাদক অমল মুখার্জি প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন প্রথম আলো বন্ধুসভার কলাপাড়ার সভাপতি মোস্তফা জামান সুজন।
বিভাগ : জাতীয়