মাদারীপুর সদর উপজেলার ছিলারচর এলাকার আরিফা আক্তার (১৪) জন্ম থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
একই প্রতারণার শিকার ছিলারচর এলাকার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শাকিল হাওলাদার (১৫)। মো. হেদায়েত হাওলাদারের ছেলে শাকিলের ভাতার টাকা যাচ্ছে অজ্ঞাত ০১৭….৪৭৯ নম্বরে। প্রশাসনিক সহায়তায় ওই ফোন নম্বরটির মালিকের নাম পাওয়া যায় রূপা আক্তার, এনআইডি অনুসারে বাড়ি মাদারীপুরেরই মধ্য খাগদীর চরমুগড়িয়ায়। এই ঠিকানায় গেলে এলাকাবাসী জানান, এই নামে কেউ নেই। তবে সদর উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তা বি এম আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আরিফা ও শাকিলের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী তাহমিনা আক্তার, তাঁতিবাড়ী এলাকার সেলিনা আক্তার, মস্তফাপুর এলাকার সোহানা আক্তার, পাঁচখোলা এলাকার চম্পা আক্তারসহ আরো অনেকের একই অভিযোগ। তিন মাস পর পর দুই হাজার ৭১৬ টাকা করে ভাতা পাওয়ার কথা। কখনো নম্বরে টাকা পান, কখনো পান না। অন্যদের বিকাশে চলে যায়।
ভাতাপ্রাপ্ত কেউ মারা গেলে তিন মাস পরে ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের খৈয়ারভাঙ্গা এলাকার আবদুর রশিদ হাওলাদার ও কুনিয়া এলাকার গোলাম মওলা মুন্সি কয়েক বছর আগে মারা গেলেও তাঁদের নামে ভাতা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। মৃত রশিদের ভাতা যাচ্ছে পশ্চিম খৈয়ারভাঙ্গা এলাকার এচমোতারা নামের এক ব্যক্তির বিকাশ নম্বরে (০১৪…..৬৬৫)। এলাকাবাসী জানান, এচমোতারা প্রতিবন্ধী নন।
মাদারীপুর সদর সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী রয়েছেন ছয় হাজার ৬৪২ জন। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তাঁদের অনেকেই এখন ভাতার অর্থ পাচ্ছেন না। সর্বশেষ ভাতার কিস্তি না পাওয়া ৯ জনের পরিবারের বাড়িতে যান এই প্রতিবেদক। এ ছাড়া দুই শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, সর্বশেষ কিস্তির টাকা (জানুয়ারি-মার্চ) তাঁদের বিকাশ নম্বরে আসেনি। বরং গায়েবি নম্বরে টাকা চলে যাওয়ার প্রমাণ মিলেছে।
কালের কণ্ঠ আরো নথি পেয়েছে, যেখানে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সদর উপজেলার ১৭ জন প্রতিবন্ধী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তাঁরা বলেন, ভাতার তালিকায় তাঁদের নাম-ঠিকানা সঠিক দেওয়ার পরও গায়েবি বিকাশ নম্বরে তাঁদের টাকা চলে যাচ্ছে।
মাদারীপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ বৈদ্য কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উজ্জ্বল মুনশির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের তদন্ত রিপোর্ট সদর দপ্তরে জমা হয়েছে। বর্তমানে উপকারভোগীদের টাকা যেন অন্য নম্বরে না যায়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’ আর মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা ভাতা যেন সঠিকভাবে পায়, সেটি আমরা অবশ্যই দেখব। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’