বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের উদ্যোগে ভর্তিপ্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের উদ্যোগে ভর্তিপ্রক্রিয়া অনেক সহজ হয়েছে।
আগে যেমন ছিল ভর্তিপ্রক্রিয়া : পূর্ববর্তী বছরগুলোতে চূড়ান্ত বিষয় (সাবজেক্ট) মনোনয়নের পর শিক্ষার্থীদের প্রথমে অনলাইনে কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি জমা দিতে হতো। এরপর সেই রসিদ ও ভর্তি ফরম নিয়ে সশরীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে যেতে হতো। সেখান থেকে বিভাগীয় ফি জমার জন্য আলাদা রসিদ দেওয়া হতো, যা নিয়ে নির্ধারিত ব্যাংকের শাখায় গিয়ে টাকা জমা দিতে হতো।
ফি জমার রসিদ নিয়ে আবার বিভাগে গিয়ে বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা পরিচালকের স্বাক্ষর নিতে হতো। এরপর নির্ধারিত আবাসিক হলে গিয়ে হলের ফি জমা দিয়ে প্রভোস্টের স্বাক্ষর নিতে হতো। সব শেষে ভর্তি ফরম বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে জমা দিলে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হতো।
বর্তমানে যেভাবে ভর্তি সম্পন্ন হচ্ছে : বর্তমানে চূড়ান্ত বিষয় মনোনয়নের পর শিক্ষার্থীরা অনলাইনে কেন্দ্রীয় ভর্তি ফি পরিশোধ করেন।
আরো সহজীকরণের পরিকল্পনা : গত শিক্ষাবর্ষে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম ভর্তিপ্রক্রিয়ায় ব্যাংকসংক্রান্ত ভোগান্তি কমাতে বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলগুলোকে অনলাইনে বা নিজ নিজ দপ্তরে ফি গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
চলতি বছরে কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের তৎপরতায় আটটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট ছাড়া বাকি সব বিভাগ এবং আবাসিক হল অনলাইনে ফি গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিস এখন এমন একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে, যেখানে শিক্ষার্থী অনলাইনেই সম্পূর্ণ কার্যক্রম শেষ করতে পারবেন, বিভাগ বা হলে গিয়ে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রয়োজনও থাকবে না। ভর্তির ফি জমা দেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের মোবাইল মেসেজ বা ই-মেইলের মাধ্যমে ওরিয়েন্টেশনের তারিখ জানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেন্দ্রীয় ভর্তি অফিসের প্রোগ্রামাররা জানিয়েছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হতে পারে।
আট বিভাগে এখনো আংশিক ভোগান্তি : আটটি বিভাগ ও ইনস্টিটিউট এখনো অনলাইনে ফি গ্রহণ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এগুলো হলো গণিত, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান, ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউট, আইন, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমুদ্রবিজ্ঞান এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ। এসব বিভাগে অনলাইন পেমেন্ট চালু না থাকায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের এখনো ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দিতে হচ্ছে।
ধাপে ধাপে সব সেবাই অটোমেশন হবে : ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সব সেবাই অটোমেশন হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা। তিনি বলেন, ভর্তিপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকে লাইনে দাঁড়িয়ে সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়ার অভিযোগ ছিল। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এ কার্যক্রম অনলাইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বছর প্রায় সব বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট পরিচালক ও হল প্রভোস্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রশাসন কেন্দ্রীয়ভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, যেখানে অনলাইন ভর্তি কমিটি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। ফলে ভর্তিপ্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি সহজ, কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়েছে।