দীর্ঘ ১০ বছর পর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তার সাবেক সেনা সদস্য হাফিজুর রহমানকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
গতকাল বুধবার বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হক এই আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদর দপ্তরের পরিদর্শক তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার ছিলেন।
পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বুধবার বিকেলে তাঁকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাইলে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তিনি আরো বলেন, গত ৬ এপ্রিল একই আদালতে হাজির হয়ে আলোচিত এই মামলার সন্দেহভাজন ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান, সৈনিক শাহিনুল আলম ও সার্জেন্ট জাহিদের ডিএনএ নমুনা ক্রস-ম্যাচ করার জন্য আবেদন করা হলে তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এদিকে ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানের গ্রেপ্তারের খবরে আদালতে এসে উপস্থিত হন নিহত তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন। তনুর বাবা ইয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা খুব খুশি, আসামি একটা ১১ বছর পর দেখলাম, কাঠগড়ায় দেখলাম। আশা করছি ন্যায়বিচার পাব। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই, দেশবাসীও যেন এটার জন্য বিচার চায়।
’ উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।