বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দখল-দূষণে হুমকিতে বলেশ্বর নদী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরে একসময়ের প্রমত্তা বলেশ্বর নদীর তলদেশ ক্রমেই ভরাট হচ্ছে। দখলের কারণে আয়তন সংকুচিত হচ্ছে অনেক জায়গায়। কৃষি-মৎস্য ও খেয়া পারাপারে জড়িত পেশাজীবীদের আশঙ্কা প্রভাব পড়বে তাদের জীবিকায়।

 

গতিহীনভাবে বয়ে চলার ধারা দেখে এক সময়ের খরস্রোতা বলেশ্বর নদীকে চিনার উপায় নেই। পিরোজপুরের স্থানীয় প্রবীণরা এখনকার অবস্থার সঙ্গে মেলাতে পারেন না আগেকার দৃশ্যপট।

 

 নদীর তীর সংরক্ষণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেয়া সংস্কারের উদ্যোগ বরং অভিশাপ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য স্থানীয়দের। পুরানো খেয়াঘাট থেকে ২১৯ মিটার দীর্ঘ এলাকায় ব্লক ডাম্পিং করার কথা ছিলো। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্লকগুলো নদীর মাঝখানে এলোমেলোভাবে ফেলে রাখায় পলি জমে ভরাট হতে শুরু করেছে। তাই ভাটার সময় ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়।

 

এক মাঝি বলেন, ‘পাকিস্তান আমল থেকে এখানে নৌকা বাই। এই নদীতে কমপক্ষে ৭০ হাত জল দেখেছি এক সময়। এখন নৌকা বাইতে পারি না, চড়ে আটকে যায়।’

 

এ নদীতে মাছ ধরে উপার্জন করতেন কয়েক হাজার জেলে। কিন্তু নদী এখন ভরাট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘসময় জাল ফেলেও জেলেরা কোন মাছ পাচ্ছেন না।

 

নদী ভরাটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কৃষিতেও। এখন পর্যন্ত দু’পাড়ে সেচের একমাত্র ভরসা নদীর পানি। নদী শুকালে দেখা দেবে পানি সংকট।

 

কৃষকরা বলেন, ‘নদী যদি ভরাট হইয়া যায় তাহলে আমরা কোথায় পানি পাবো। জমিতে সেচ দিবো কিভাবে। পানি না থাকলে কোন ফসল হবে না। আগে মাছ পাইতাম এখন আর পাই না।’

 

পৌর এলাকার পানির চাহিদা মেটায় বলেশ্বর নদী। এটি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে জীবন-জীবিকার মত হুমকিতে পড়বে এ অঞ্চলের পরিবেশ। তাই দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান স্থানীয়দের।

 

নদীটির দুরবস্থার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে দায়ী করছেন পিরোজপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইদুল্লাহ লিটন। বলেন, ‘বলেশ্বর নদী ভাঙা রোধ করার জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা পরিকল্পনা মাফিক হয় নাই। কারণ ভাঙন ঠেকানোর জন্য নদীর ভিতরে গিয়ে কাজ করা হয়েছে। যার কারণে পানির স্রোত ব্লকের সাথে আটকে যায়। এর কারণেই এখানে চড় সৃষ্টি হয়েছে।’

 

 

নদীটি খনন করে নাব্য সংকট দূর করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুসাইর হোসেন। বলেন, ‘নদীটি পুনরায় খনন করার জন্য ফিজিবিলিটি স্টাডির মাধ্যমে আমাদের এখান থেকে প্রস্তাবনা প্রেরণ করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

 

একসময় নদীর ঘাটে ভিড়তো বড় বড় পণ্যবাহী জাহাজ। সংক্ষিপ্ত পথ থাকায় বলেশ্বর ছিল আন্তর্জাতিক নৌরুট। মূলত এই রুটকে কেন্দ্র করেই পিরোজপুর, ঝালকাঠি এবং বাখরগঞ্জ ( বর্তমান বাকেরগঞ্জ) হয়ে উঠেছিল দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ব্যবসা প্রধান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকা।

 

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com