ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক পা কেটে ফেলার পরও একজন জুলাইযোদ্ধার অনুভূতি—প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এক পা কেটে ফেলার পরও একজন জুলাইযোদ্ধার অনুভূতি—প্রয়োজন হলে পুরো শরীরই দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে ছিনিয়ে নিতে দেব না।
তিনি আরো বলেন, ‘সংসদের ভেতরে যত দিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং কথা বলার সুযোগ থাকবে, তত দিন সংসদে থাকব। লড়তে না পারলে, কথা বলতে না পারলে এক মিনিটও থাকব না,’ বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি সরকার গুম ও মানবাধিকার অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, পুলিশ অধ্যাদেশ, গণভোট অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বাতিল করেছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি ‘গায়ের জোরে’ সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করছে, যা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পরিপন্থী।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর দেশে খুনের রাজনীতির সূচনা করে দলটি।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ কিংবা নিজেদের ইশতেহারের ৩১ দফার কোনোটিই বাস্তবায়ন করছে না।
তিনি বলেন, ‘সংস্কারের কথা তারা মুখে বললেও কাজে তার প্রমাণ নেই।
এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম অভিযোগ করেন, ‘যখনই বিএনপি গুম, দুদক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে, তখন বোঝা যায়, তারাও আওয়ামী লীগের মতো একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বজায় রাখতে চায়।’ বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের জন্য কবর খুঁড়তে যাবেন না—সেই কবরে আপনাদেরই আগে ঢুকতে হবে।’
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইযহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী ও ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বসির এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের পক্ষে বক্তব্য দেন শহীদ আলিফের বাবা গাজীউর রহমান, শহীদ মেহেরুন নেছার বাবা মোশারফ হোসেন, শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ, জুলাইযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান, কামরুল আহসান, শেখ জামাল হোসেন, সানজিদা খানম দ্বীপ্তি, লাখী বেগম, শহিদুল ইসলাম, কবির হোসেন ও তাজুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, সন্তানের রক্তের বিনিময়ে তাঁরা একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে চান। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে তাঁরা পরিবারসহ রাজপথে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন।