নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় পানিসংকট এখন চরমে পৌঁছেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ তো দূরের কথা, বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্যও প্রতিদিন সংগ্রাম করতে হচ্ছে স্থানীয়দের। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সীমিত আকারে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তীব্র গরম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরো উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
জানা যায়, প্রায় অর্ধলাখ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছে। বছরের পর বছর ধরে একই চিত্র দেখা গেলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না। সাময়িকভাবে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বেশি দিন কার্যকর থাকে না, কয়েক দিন পরই আবার ফিরে আসে সংকট।
বিশেষ করে সদ্য পেরিয়ে যাওয়া রমজান মাসে পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ।
পানির অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন প্রায় অচল হয়ে পড়ে। রান্না, গোসল, এমনকি অজু করার মতো কাজেও চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।
বন্দরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত শীতলক্ষ্যা নদী থাকলেও সেটি কোনো উপকারে আসছে না। শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে ওঠে, যা ব্যবহারের অযোগ্য।
বাধ্য হয়ে অনেকেই সেই নোংরা পানি দিয়েই গোসলসহ দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে নিচ্ছে।
কবিলের মোড় এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, ‘নদীর ময়লা পানি দিয়েই আমাদের দৈনন্দিন কাজ চালাতে হয়। সিটি করপোরেশন থেকে যে পানি দেওয়া হয়, তা আমাদের প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।’
তিনি আরো জানান, নতুন প্রশাসক নিয়োগের পর কিছুটা আশার আলো দেখছেন তাঁরা। এরই মধ্যে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানিবাহী গাড়ি দিয়ে সরবরাহ শুরু হয়েছে।
তবে এই পানি দিয়ে শুধু রান্নার কাজ চালানো সম্ভব, দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হয় না। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, যেসব এলাকায় পানির সমস্যা রয়েছে, সেখানে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাম্পসংক্রান্ত কিছু সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।