সরবরাহ সংকটে রাজধানীর বাজারে মুরগির দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী। বিশেষ করে সোনালি মুরগির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ব্রয়লার মুরগির দামও তুলনামূলক বেশি থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ রোজায় এই মুরগির দাম ছিল ২৮০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।
মুরগি বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমানে বাজারে সোনালি মুরগির সরবরাহ খুবই কম, যার কারণে দাম বাড়তি। খামারগুলোয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় আগের মতো মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না।
পাশাপাশি পাম্পে জ্বালানি তেল নিতে ভোগান্তির কারণে পরিবহনভাড়াও বাড়িয়েছেন চালকরা, যার প্রভাব পড়ছে বাজারে। বাড়তি দামের কারণে মুরগি বিক্রি কমে গেছে বলেও বিক্রেতারা জানান।
তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, বিক্রেতারা সিন্ডিকেট করে মুরগির বাজার অস্থির করে রেখেছেন। তাঁরা দ্রুত মুরগির বাজারে তদারকি বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
অন্যদিকে খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক প্রান্তিক খামারি লোকসান গুনতে গুনতে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
রাজধানী বাড্ডার মুরগি বিক্রেতা মো. বায়েজিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চাহিদামতো সোনালি মুরগি পাওয়া যাচ্ছে না, সরবরাহ কমে যাওয়াই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। খামারিরা চড়া দামে বিক্রি করার কারণে আমাদেরও বাড়তি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।’
এ বিষয়ে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি মো. সুমন হাওলাদার বলেন, ‘সাত মাস ধরে ডিম ও মুরগি বিক্রি করে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাননি।
লোকসান গুনতে গুনতে তাঁরা নিঃস্ব হয়ে খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘খামারগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে এখন যে উৎপাদন ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা মূলত বড় বড় করপোরেট কম্পানিগুলোর তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট।
সবজির দামও বাড়তি : যানবাহনে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে চালকদের। এতে অনেক পরিবহনচালকরা ভাড়াও বাড়িয়েছেন। ফলে যার প্রভাব পড়েছে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যের দামেও। তবে বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম এখনো ক্রেতার নাগালে রয়েছে। বেগুন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটোল, করলা ও চিচিঙা ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, শসা ৫০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা আম ১০০ টাকা, সজনে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা ও ঝিঙা ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।