বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পর্যটকশূন্য দুবাই আবাসন-শেয়ারবাজার ধস

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
মধ্যপ্রাচ্যের মরূদ্যানকে নতুন পরিচয় এনে দিয়েছিল দুবাই শহর। বুর্জ খলিফার মতো আকাশছোঁয়া অট্টালিকা, নীল আকাশ, শান্ত সমুদ্র আর পাম জুমেইরাহর বিলাসী জীবন পুরো দুবাইকে যেন এক টুকরা স্বর্গে পরিণত করেছিল, যেখানে শান্তির খোঁজে ছুটে আসতেন বিশ্বের সম্পদশালী আর সেলিব্রিটিরা।

ইরান যুদ্ধে পর্যটকশূন্য দুবাই আবাসন-শেয়ারবাজারে ধসফলে জ্বালানির পাশাপাশি পর্যটন, আবাসন ও বিমান চলাচল মিলে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) গড়ে তুলেছিল অর্থনীতির এক নতুন মডেলে, যা দেশটির আয়ের বড় উৎস হয়ে ওঠে। কিন্তু ইরান যুদ্ধ বদলে দিচ্ছে সব হিসাব-নিকাশ।

ইরানের ড্রোন আর মিসাইলের গর্জনে পুরো দুবাই যেন একটি কাচের ঘরে পরিণত হয়েছে। যে ধনীরা এত দিন শান্তির খোঁজে এই শহরে এসেছেন তাঁরাই এখন দুবাই ছেড়ে গেছেন। নেই পর্যটক, ধস নেমেছে আবাসন, বিমান চলাচল ও শেয়ারবাজারেও। 

মার্চ মাস পর্যন্ত ইরান আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে ৩৯৮টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, এক হাজার ৮৭২টি ড্রোন ও ১৫টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।

এর বেশির ভাগ প্রতিহত করা হলেও আবুধাবি ও দুবাইয়ের বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বুর্জ আল আরব, পাম জুমেইরাহ, দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহর তেল শিল্পাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

ফলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে দুবাই। যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই ৮০ হাজার হোটেল বুকিং বাতিল হয়েছে।

পুরো বছরের হিসাবে ইউএইতে পর্যটক ৪০ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ২০ দিনেই মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটন খাত হারিয়েছে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি। পর্যটক কমায় মধ্যপ্রাচ্যে দৈনিক লোকসান হচ্ছে ৬০০ মিলিয়ন ডলার, যার একটি বড় অংশ হারাচ্ছে ইউএই। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের কারণে ইউএইর শুধু পর্যটন খাতেই লোকসান হবে ২০ বিলিয়ন ডলার। 

পর্যটনের পাশাপাশি ইউএইর সবচেয়ে বড় আকর্ষণের একটি হচ্ছে এর আবাসন খাত।

স্বাভাবিকভাবে এ খাতেই প্রভাব পড়েছে বেশি। ২০২৫ সালের শেষ দিকে যে বাজারের লেনদেন ১৪৭ বিলিয়ন বা ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল, সেই বাজার এখন দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। 

মার্চের শেষে রিয়েল এস্টেট সূচক কমেছে অন্তত ১৬ শতাংশ। বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাব, এক বছরের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৩৭ শতাংশ। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিক্রি অর্ধেকের বেশি কমেছে। দ্রুত বিক্রির জন্য অনেক সম্পত্তি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কম দামে ছাড়তে হচ্ছে। বুর্জ খলিফার নির্মাতা এমার প্রপার্টিজের শেয়ারের দাম ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে।

গত এক মাসে দুবাই ও আবুধাবির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানিগুলোর বাজারমূল্য কমেছে ১২০ বিলিয়ন বা ১২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে বেশি চাপে আছে দুবাইয়ের শেয়ারবাজার। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই বাজারের সূচক কমেছে ১৬ শতাংশ, আবুধাবির তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।

মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাই এখন বড় নাম। মধ্যপ্রাচ্যের বিলাসপণ্যের বাজারের প্রায় অর্ধেকই এখানে। তবে এই চাহিদা নির্ভর করে পর্যটনের ওপর। ২০২৫ সালে দুবাইয়ে দুই কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক এসেছিল। দুই দশক ধরে দুবাই ও আবুধাবি এই অস্থির অঞ্চলে নিজেদের ‘স্থিতিশীল দেশ’ হিসেবে ধরে রেখেছিল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই ভাবমূর্তি এখন ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র : আল জাজিরা, মিডল ইস্ট আই

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com