সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে দুই কোটি হাম-রুবেলার টিকা সরকারের হাতে এসেছে, কিন্তু লোকবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে তা প্রয়োগ করা হয়নি। এর আগেও প্রায় ৯ মাস শিশুরা নিয়মিত টিকা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। এ ছাড়া অনেক শিশুর টিকার নির্ধারিত ডোজও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
বর্তমানে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২ জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।
আমাদের স্বাস্থ্য খ্যাতের অনিয়ম-অব্যবস্থাপনার কথা বলে শেষ করা কঠিন। সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্র বরাবরই করুণ। বেসরকারি পর্যায়ে বাড়তি টাকার ঝক্কি। সব মিলিয়ে দেশের বড় জনগোষ্ঠী যথাযথ চিকিৎসা পায় না বললেই চলে। এর সর্বশেষ মর্মান্তিক উদাহরণ হলো রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শুধু আইসিইউ শয্যার অভাবে ১১ দিনে ৩৩ শিশুর মৃত্যু।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আমরাও মনে করি, এসব অবহেলা-অব্যবস্থাপনায় জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, হামসহ ছয়টি রোগের টিকা কিনতে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে ৬০৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। শিগগির টিকা পাওয়া যাবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন মন্ত্রী। তবে টিকাপ্রাপ্তির পাশাপাশি টিকা প্রদানের বিষয়টিও পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এই খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে হবে। প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ নিয়ে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত না হয়ে যেন সচেতন হয়, সেই প্রচেষ্টাও চালাতে হবে।