গতকাল সংসদ ভবনের সামনে এ মানববন্ধন আয়োজন করে গণভোট বাস্তবায়নে নাগরিক ফোরাম, ওয়ারিয়র্স অব জুলাই, জুলাই যোদ্ধা সংসদ, তারুণ্যের জুলাই, বাংলাদেশ জুলাই যোদ্ধা সংসদ সোসাইটি, ২৪ মঞ্চ ও জুলাই রাজবন্দি অ্যালায়েন্স। এছাড়া অন্য নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আলোচিত ব্যক্তিরা এতে অংশ নেয়।
গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদে মাত্র ৭০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। আমরা আশা করব, বাকি সদস্যরাও দ্রুত শপথ নিয়ে সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাবেন। হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গঠিত সংসদের প্রথম কাজই ছিল সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া। সংস্কারের পক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ রায় দিয়েছে। গণভোট নিয়ে বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা সংবিধান সম্মত কিনা সেই প্রশ্ন তুলে বক্তব্য দিয়েছেন। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ এর পক্ষে রায় দিয়েছে, সুতরাং প্রথম কাজ হওয়া উচিত সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া এবং এটি বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়া। এটি এড়িয়ে গেলে তা ভুল সিদ্ধান্ত হবে।’
তারুণ্যের জুলাইয়ের সহসভাপতি মো. সাগর বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আমরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দিয়ে কোনো উত্তর পাইনি। আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গিয়ে আহত হয়েছি, এবার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে প্রয়োজন হলে জীবন দেব।’
ওয়ারিয়র্স অব জুলাইয়ের প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক মারুফা মায়া বলেন, ‘রক্তে ভেজা সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৬ বছর গুম, খুন, নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা চাই না এ রক্তে জর্জরিত সংবিধানের দোহাই দিয়ে আবার সেসবের পুনরাবৃত্তি হোক। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানকে হাস্যকর বস্তুতে পরিণত করেছে বর্তমান সরকার। রক্ত দিয়ে দীর্ঘদিনের গড়া আওয়ামী স্বৈরাচারের রাষ্ট্রযন্ত্র ভেঙেছি।’ গণ-অভ্যুত্থানে বিগত স্বৈরাচারী সরকারের পরিণতির কথা উল্লেখ করে তিনি চরম পরিণতির হুমকি দেন।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন বলেন, ‘জুলাই শুধু হাসিনাকে সরানোর জন্য হয় নাই। জুলাই হয়েছে যেন বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারের মুখে না পড়ে। নির্বাচন দিয়েই স্বৈরাচার ঠেকানো যায় না। নির্বাচিত মানুষই স্বৈরাচার হয়ে ওঠে, সেটাই বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা। এটাকে ঠেকানোর জন্য জুলাই সনদ, সেজন্যই সংবিধানের মধ্যে এমন ব্যবস্থা রাখা যার মাধ্যমে স্বৈরাচার হওয়া যাবে না। সুতরাং এ গণভোটকে অস্বীকার করা এবং সংস্কার পালন না করা বাংলাদেশবিরোধী।’
আহত জুলাই যোদ্ধা মুনির বলেন, ‘আমরা জুলাইয়ে রক্ত দিয়েছি, আহত হয়েছি। একেকজন একেকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, অঙ্গ হারিয়েছি। আমরা কোনো পদ-পদবি চাই না, মন্ত্রিত্বও চাই না। চাই শুধু জনগণের আকাঙ্ক্ষার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।’
আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘আজ আপনারা সংবিধানের কথা বলছেন। গণ-অভ্যুত্থান, বিপ্লব, প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়া এসব সংবিধানে নেই, কিন্তু আমরা এসবকে আলিঙ্গন করেছি। জনগণ ভিন্ন বাংলাদেশ চায়, সেটা রক্ত দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে। গণরায়ের ভিত্তিতে আপনারা সরকারে গেছেন, কিন্তু আরেকটা গণরায় আপনারা কেন মেনে নিচ্ছেন না? জনগণের রায় সংবিধানেরও ওপরে।’








