মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ব্রহ্মপুত্রের অবৈধভাবে বালু তুলে বেচাকেনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

জামালপুরে ব্রহ্মপুত্র থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত অধিকাংশ বালু বিক্রি হচ্ছে সড়কের ওপর থেকে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়ক। যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সড়কে চলাচলকারী যানবাহন চালক ও যাত্রীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়ক ও কানিল-পিয়ারপুর সড়কের ১০-১২টি স্থানে নিয়মিত চলছে বালু বেচাকেনা। সড়ক ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক, ট্রাক্টর ও মাহিন্দ্রাতে তোলা হচ্ছে বালু। দিনরাত বালু বোঝাই ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ধ্বংস হচ্ছে সড়ক। প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে যানবাহন। ঘটছে হতাহতের ঘটনা। অনেক সময় রাস্তা বন্ধ করে বালু তোলায় সড়কে দীর্ঘ সময় আটকা পড়ছে দূরপাল্লার যানবাহন।

জানা গেছে, জামালপুর শহরের ফেরিঘাট থেকে শুরু করে পিয়ারপুর পর্যন্ত ১৫-২০টি স্থানে ব্রহ্মপুত্র নদের বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করছে স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট। বালুখেকোরা নদে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, মাহিন্দ্রা ও ভটভটি দিয়ে পরিবহন করছে। ব্রহ্মপুত্র সেতুর গোড়া, জামালপুর শহররক্ষা বাঁধ, শহরের বাইপাস ও মহাসড়কের খুব কাছ থেকে বালু উত্তোলনের ফলে ওইসব স্থাপনা পড়েছে হুমকির মুখে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীরবর্তী এলাকার রাস্তাঘাট, হাটবাজার, বাড়িঘর, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ফসলি জমিও হুমকির মুখে পড়েছে।
ওইসব এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জামালপুর ফেরিঘাট থেকে মহেষপুর কালীবাড়ি ও কানিল থেকে পিয়ারপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে কোথাও সড়কের পাশে, কোথাও সড়কের ওপর বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। সেখান থেকে ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, মাহিন্দ্রা, ভটভটিসহ বিভিন্ন যানবাহনে বালু যাচ্ছে নানা স্থানে।
স্থানীয়রা জানান, জামালপুর-ময়মনসিংহ সড়কের ওপর বিভিন্ন ভারী যানবাহন দাঁড় করিয়ে ২৫ থেকে ৩০ টন বালু বোঝাই করা হয়। শত শত ট্রাক, ডাম্প ট্রাকসহ ভারী যানবাহন দিনরাত চলাচল করায় ভেঙে যাচ্ছে সড়ক।

নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা সংবাদকর্মী ছাইদুর রহমান বলেন, রাস্তার ওপর বালুর হাটের কারণে ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক। এ ছাড়া সড়কের ওপর বালুর স্তূপ ও ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক বিভাগ জেনেও বালুখেকোদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও দিনমজুর ও পরিবহন চালক ছাড়া বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় না। ফলে প্রভাবশালীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সেই বালু সড়কের ওপর রেখে বেচাকেনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে আসছেন তারা। কিন্তু বালুখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা অনেকটাই বেপরোয়া। তাঁর ভাষ্য, এসব বন্ধে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করার পরও কোনো প্রতিকার মেলেনি। অবৈধ বালুর হাটবাজার বসিয়ে সড়ক ধ্বংস করলেও সড়ক বিভাগ বরাবরই নীরব।

জামালপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী নওয়াজিস রহমান বিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলে তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানাতে বলেন। সদর থানার ওসি মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘সমস্যাতো সেখানেই, আমাদের কার কী দায়িত্ব সেটাই তো আমরা বুঝি না।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজনীন আখতার বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com