পরে কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী সাংবাদিকদের তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি।
পরে কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী সাংবাদিকদের তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করেছি, ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছি।
এর আগে সচিবালয়ে আসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন ও কমিশনাররা। দুপুর ২টা ৩৬ মিনিটে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক নম্বর ভবনে প্রবেশ করতে দেখা যায় তাঁদের। ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁরা পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে বের হয়ে যান।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মোমেন চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব হন। পরে তাঁকে সিনিয়র সচিবের পদমর্যাদা দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর তাঁকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিন দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির দুই কমিশনারকেও নিয়োগ দেওয়া হয়।
চাপে নয়, নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ : বিদায়ি দুদক চেয়ারম্যান
নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রত্যাশা পূরণে পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার।
গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
বিদায়ি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, ‘নতুন সরকারের প্রত্যাশা আছে, যে কারণে তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে সহযোগী হিসেবে আমরা পদত্যাগ করেছি। নির্বাচিত সরকার আসার ১৪তম দিনে আমরা পদত্যাগ করলাম। এর বিশেষ কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ‘আমরা অনুভব করেছি, পরিবর্তনের পর নির্বাচিত যে সরকার এসেছে, তাদেরও প্রত্যাশা রয়েছে। সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণের জন্য নিশ্চয়ই আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য কমিশন এখানে স্থাপন করবে। এতে দুদক যেমন ভালো হবে, রাষ্ট্রেরও উপকার হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি আরো বলে, ‘নতুন সরকারের সময় যে অংশটুকু কাজ করতে পেরেছি, সে জন্য আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’
দুদকের ‘নখ-দাঁত’ থাকা না-থাকাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা বিচার করার মালিক আপনারা। আমাদের এত দিন নখ-দাঁত ছিল কী ছিল না, তা আপনারা ভালো বুঝতে পারবেন। আমরা আমাদের সময়টুকুতে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করেছি।’
রাজনৈতিক প্রভাবে দুদক চলবে কি না, এমন প্রশ্নে বিদায়ি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সরকারের নিজস্ব ইশতেহার ও প্রত্যাশা থাকে। সরকার সেই অনুযায়ী কাজ করবে, এতে আমি ব্যত্যয় কিছু দেখছি না। আমরাও অনুভব করছি, এখন আমাদের চেয়ে অধিকতর যোগ্য লোকের কাজ করা প্রয়োজন।’
দুদক আইন অনুযায়ী, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনাররা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁর সঙ্গে পদত্যাগ করা দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।