মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছে পরাশক্তিগুলো

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

ইরান এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ১০টি দেশে (ইসরায়েল, বাহরাইন, জর্ডান, ইরাক, কাতার, কুয়েত, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সিরিয়া) পাল্টা হামলা চালিয়েছে। আর ইসরায়েল ইরান ছাড়াও লেবাননে হামলা চালাচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪টি দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে বড় হামলা এখনও শুরুই হয়নি। যুদ্ধ চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর জন্য সব পক্ষকে সহায়তা করার আগ্রহ দেখিয়েছে তুরস্ক।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হতে চায় মিত্র পরাশক্তিগুলো। ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য প্রকাশ্যে এ ঘোষণা দিয়েছে। ন্যাটোও মার্কিন পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরাশক্তিগুলো জড়িয়ে পড়লে এই যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কিনা– সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে তিনি উত্তর দেননি।

ইরানের দাবি, শুধু মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে এসব হামলায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। মানামা, দোহা বা দুবাইয়ে বোমা হামলায় দেশগুলোর নেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানে পাল্টা হামলা চালাবে কিনা, তা নিয়ে দোলাচলে ভুগছে। সে ক্ষেত্রে ইসরায়েলের মিত্র হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। এটা জনগণকে শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মূলত গত শনিবার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে। বিবিসি পার্সিয়ান প্রতিনিধির তথ্য অনুযায়ী, ইরানি কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ না করার জন্য সতর্ক করেছে। কুয়েতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনী বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈরুত ও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ৫২ জন নিহত ও ১৫৪ জন আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে তারা এ অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, গত রোববার ইসরায়েলের বেইত শেমেশ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৯ জন নিহত হয়েছেন। সংঘাতের আঁচ পৌঁছেছে সাইপ্রাস পর্যন্ত। সেখানে ব্রিটিশ আরএএফ ঘাঁটিতে একটি সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। সেখানকার ব্রিটিশ সেনার পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের পাল্টা হামলার প্রতিবাদে বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তানে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩।
ইরান গতকাল কাতার ও সৌদি আরবের জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলো জ্বালানি তেলের উৎপাদন ও পরিশোধন বন্ধ রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর দাম ১৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে এর দাম ব্যারেলে ১০০ ডলারে ঠেকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ শেয়ারবাজার বন্ধ করে দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। সিএনএন জানায়, ওয়ালস্ট্রিটের এসঅ্যান্ডপি ৫০০, নাসডাক কম্পোজিট, ডাও জোনস ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ফিউচারের সূচক প্রায় ১ শতাংশ করে কমেছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারের দর এক হাজার ১০০ কোটি ডলার কমেছে।

ইরানে বড় হামলা এখনও শুরু হয়নি: ট্রাম্প 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালেও ‘সবচেয়ে বড় ঢেউ’ এখনও আসেনি। গতকাল সোমবার সকালে সিএনএনকে দেওয়া প্রায় ৯ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে ‘ভালোভাবেই আঘাত করছে’। তবে আরও বড় পদক্ষেপ সামনে রয়েছে। এর আগে রোববার ডেইলি মেইলের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চার বা পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট– প্রথম লক্ষ্য ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষমতা ধ্বংস করা।

পদক্ষেপ নেবে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য
ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে হানা দেওয়া ইরানের নির্বিচার এবং অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমরা স্তম্ভিত।‘ তিন দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘আমরা নিজেদের এবং এই অঞ্চলে মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণস্থলে সেগুলো ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।‘ জার্মান সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র এএফপিকে জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় উত্তর ইরাকের ইরবিলের কাছে একটি বহুজাতিক সামরিক ঘাঁটি এবং পূর্ব জর্ডানে একটি জার্মান সেনাক্যাম্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আরেক বক্তব্যে বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নেতৃত্বে এ যুদ্ধে আমরা সরাসরি যোগ দেব না।’

হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা ইরানের 
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বড় ধরনের হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম এবং তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। খামেনির হত্যাকাণ্ডকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরান এই অপরাধের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে বলেন, ‘যে কোনো মূল্যে আমরা নিজেদের রক্ষা করছি।’ তিনি বলেন, সামরিক ইউনিটগুলো আগে থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী চলছে। আইআরজিসি খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নিতে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।

ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত চীনের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে উত্তেজনা রোধের আহ্বান জানিয়েছে চীন। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে এ সমর্থনের কথা জানান। ওয়াং ইয়ি বলেন,  বেইজিং  তেহরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় পাশে আছে। চীন ইরানের বৈধ ও আইনানুগ অধিকারকে সমর্থন করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আহ্বান জানিয়েছে।

যু্ক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সমর্থন 
ইরানে মার্কিন পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন দিয়ে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বিবিসিকে জানিয়েছেন, ইরানে চলমান অভিযানে ন্যাটোর সরাসরি যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি একে শুধু ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নেতৃত্বাধীন অভিযান’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রুটে জানান, ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো ইউরোপের জন্য হুমকি। ব্রিটেনের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। ন্যাটোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সমন্বয় থাকলেও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিষয়ে আগে থেকে জানতেন কিনা, তা তিনি প্রকাশ করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের তিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত  
কুয়েতের আকাশে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে ঘটনাটি মিত্রপক্ষের গুলিতে ঘটা দুর্ঘটনা (ফ্রেন্ডলি ফায়ার) বলে দাবি করেছে বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানায়, বিধ্বস্ত তিনটি বিমানের ছয়জন ক্রুই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। শনিবার ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হলো। সেন্টকমের দাবি, ইরানি হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার সময় কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত মার্কিন বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে গুলি করে ভূপাতিত করে।

ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫
ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ১৩১টি শহরে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে কাতারে ১৬ ও ইসরায়েলে ১০-এ দাঁড়িয়েছে। লেবাননে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ১৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ইরানের হামলায় ইরাক ২, কুয়েত ১, বাহরাইন ১, সংযুক্ত আরব আমিরাত ৩ এবং ওমানে ১ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গতকাল আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এ নিয়ে চারজন মার্কিন সার্ভিস সদস্য নিহত হলেন।

আলোচনায় আগ্রহী ট্রাম্প, ইরানের নাকচ
গার্ডিয়ান জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ৪৮ ইরানি নেতা নিহত এবং ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। তবে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলি লারিজানি সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না।

সাইপ্রাসে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে হামলা
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার গতকাল জানিয়েছেন, সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে চালিত ড্রোন হামলাটি সরাসরি রানওয়েতে আঘাত করেছে। কুপার স্কাই নিউজকে বলেন, ‘এটি শুধু বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে চালানো একটি ড্রোন হামলা। আমরা এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারছি না। তবে ঘাঁটির সুরক্ষায় সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

অন্তহীন যুদ্ধ নয়: মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল পেন্টাগনে ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা, নৌবাহিনী এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া। হেগসেথ এই যুদ্ধকে ‘অন্তহীন’ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি একে ‘নির্দিষ্ট ধ্বংসাত্মক ও নিষ্পত্তিমূলক মিশন’ বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল হামলা চালাবে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা এখনই নাকচ করা যাচ্ছে না।’

ইরানে লক্ষ্যবস্তু বাসাবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল
ফার্স সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শহর সানন্দজে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছে। শহরের পুলিশ স্টেশনের পাশের কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী শহরের বিভিন্ন অংশে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এর মধ্যে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাও রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক কেন্দ্র এবং সামরিক সদরদপ্তর লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এতে বহু বেসামরিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে। এসব হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। ইরানের কেন্দ্রীয় শহর কেরমানশাহের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ভবনের পিছনে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত শনিবার মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮০ জনে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তেহরানের গান্ধী হাসপাতাল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটেছে
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির স্ত্রী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। এদিকে, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা প্রধান হুসেইন মাকলেদ এবং ইরানি উপমন্ত্রী সাইয়েদ ইয়াহিয়া হামিদি নিহত হয়েছেন। তেহরানে ইরানের গোয়েন্দা সদরদপ্তরেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা জবাবে ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস এলাকায় আগুনের ধোঁয়া দেখা গেছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। দোহা, বাহরাইন ও দুবাইতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরাকের এরবিলে তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইস্পাহানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণগুলো একটি পারমাণবিক স্থাপনা এবং বিমানঘাঁটি-সংলগ্ন এলাকায় হয়েছে। গতকাল ইরানের দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার তথ্য জানিয়েছে কাতার।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com