মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

যৌথ হামলার জবাব দিচ্ছে ইরান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গতকাল শনিবার বিমান ও সমুদ্রপথে হামলা চালানো হয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ শীর্ষ সামরিক-বেসামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্যে পরিণত করা হচ্ছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ নেতার বাসভবন ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা। মেয়েদের দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ৮৫ শিক্ষার্থী নিহত হন। রেড ক্রিসেন্ট বলছে, যৌথ হামলায় ইরানে ২০১ জন নিহত ও ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে এ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা শুরু করে ইরান। এর মধ্য দিয়ে পুরো অঞ্চল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ, কুয়েত, জর্ডান, ইরাক, কাতার ও আরব আমিরাতের আবুধাবিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক হামলা হয়েছে। তবে সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, খামেনি তেহরানে নেই। তিনি একটি নিরাপদ স্থানে রয়েছেন।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বলা হলেও প্রথম দিনে ইরানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ জানায়, গতকাল শনিবার তেহরানের ইউনিভার্সিটি স্ট্রিট ও জমহৌরি এলাকায় বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এসব এলাকা থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তেহরানের উত্তরাঞ্চলীয় সাইয়্যেদ খানদান এলাকায়ও বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরানের গণমাধ্যম পশ্চিম ইলাম প্রদেশসহ দেশব্যাপী হামলার খবর জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বিভিন্ন শহরে সামরিক ও প্রতিরক্ষা স্থাপনা, পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যৌথ হামলার লক্ষ্য ‘ইরানের শাসনের আসন্ন হুমকি দূর করা’। তিনি বলেন, ‘মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানে বড় ধরনের যুদ্ধ অভিযান শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য ইরানি শাসনের হুমকি দূর করে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করা।’
ইরানের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, তেহরান বড় প্রতিশোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে; শত্রুদের চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টিভি বলছে, ইরান ইসরায়েলের ওপর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সম্পদ ও তাদের স্বার্থ বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই আগ্রাসনের পর কোনো লাল রেখা নেই।’

এ অবস্থায় গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কী আলোচনা হয়েছে, তা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি।

ইসরায়েল, বাহরাইন, আরব আমিরাত, কুয়েতে বিস্ফোরণ
হামলার শিকার হওয়ার পরপরই ইরান ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আলজাজিরা জানায়, ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও কিছু সংখ্যক উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। তবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যে পরিণত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদরদপ্তরও। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা দেশের ভূখণ্ডকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি আক্রমণ সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার পর আবুধাবিতে একজন নিহত হয়েছেন। দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ক্রিটিক্যাল সিকিউরিটি স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক মুহানাদ সেলুম আলজাজিরাকে বলেন, অঞ্চলের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ, ইরান তাদের ওপর চাপ বাড়াতে চায়। তারা এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশকে এ যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। ইরান চাপ বাড়াতে চায় সম্ভবত এই আশায়, এসব দেশ যুদ্ধ বন্ধ করতে মার্কিন প্রশাসনকে চাপ দেবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের ওপর আক্রমণের লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করা।

মেয়েদের স্কুলে হামলা, ৮৫ জন নিহত
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণে হরমোজগান প্রদেশের মিনাবে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ৮৫ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলি ফরহাদি বলেন, গতকাল শনিবার স্কুলটিতে ‘তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হানে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হামলা ‘চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র’
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে চলমান হামলা অব্যাহত রাখবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা আলজাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আকাশ ও সমুদ্র থেকে ‘ব্যাপক’ হামলা চালানো অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে হামলা শুধু ইরানের অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যবস্তুতে সীমিত রয়েছে। ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে হামলা চালানো হচ্ছে।

সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযমের আহ্বান ইউরোপীয় কমিশনের
ডয়াচে ভেলে লিখেছে, ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আর উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডেয়ার লাইয়েন এবং ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা। গতকাল শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘ইরানে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি গভীরভাবে উদ্বেগজনক।’ তারা বলেন, ‘আমরা সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার এবং আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার আহ্বান জানাই।’

ইইউর প্রধান কূটনীতিক কায়া কাল্লাস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সর্বশেষ ঘটনাবলি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কনস্যুলার নেটওয়ার্ক ইইউ নাগরিকদের অঞ্চল ত্যাগে সহায়তায় সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ইইউ কর্মীদের অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

এটা তোমার যুদ্ধ না, যুক্তরাষ্ট্রকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানে হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবুসাইদি। বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানায়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এ হামলা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে কূটনৈতিক সমাধানের পথ অন্বেষণের কথা বলেছেন।

এক্স পোস্টে আবুসাইদি বলেন, ‘আমি হতাশ। সক্রিয় এবং গভীর আলোচনাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এতে না যুক্তরাষ্ট্র, না বিশ্বের উদ্দেশ্য কায়েম হবে। আমি যুক্তরাষ্ট্রকে বলব, আর যাতে হামলায় না জড়ায়। এটা তোমার যুদ্ধ নয়। আমি সেই নির্দোষদের জন্য প্রার্থনা করি, যারা ভুগবে।’ সেই সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা নিয়ে বৈঠক করার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ওমান।

হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্থগিত করেছে কিছু তেল কোম্পানি
বিশ্বের কিছু শীর্ষ তেল ও বাণিজ্য কোম্পানি যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্থগিত করেছে। একটি প্রধান বাণিজ্য কোম্পানির এক শীর্ষ নির্বাহী রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের জাহাজগুলো বেশ কয়েক দিন অচল থাকবে।’ আরব উপদ্বীপ ও ইরানের মধ্য বয়ে যাওয়া বিখ্যাত এ জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে জাহাজ চলাচল করে। এ ধরনের স্থগিতের ঘটনা বিশ্বব্যাপী বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী তেলের বাজার গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাতের মুখোমুখি হয়েছে।

বিনা উস্কানিতে হামলা, আইনি ভিত্তি নেই, বলছেন বোর্গার
ইরানের হামলা নিয়ে কথা বলেছেন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক-সাংবাদিক জুলিয়ান বোর্গার। গতকাল শনিবার দ্য গার্ডিয়ান অনলাইনের প্রতিবেদনে তিনি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বোর্ড অব পিস যুগের প্রথম যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইসরায়েলের সহযোগিতায় ইরানে শাসন পরিবর্তনের জন্য একটি বিনা প্ররোচনায় প্রচেষ্টা। এর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে এবং মার্কিন কংগ্রেস বা যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের সঙ্গে ন্যূনতম পরামর্শ না করেই এ যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে।

হামলা শুধু ইসরায়েলের স্বার্থে, বলছে ইরান
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ইরানের ওপর আক্রমণ ‘মার্কিন জনগণের স্বার্থকে রক্ষা করে না।’ আলজাজিরাকে তিনি বলেন, ‘এটি এমন কিছু যা ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা কখনও যুদ্ধ চাইনি। আমরা এ সমস্যাটি কূটনৈতিকভাবে সমাধান করতে যাচ্ছিলাম। এটি ছিল এই অঞ্চলের সব দেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি।’ তিনি বলেন, ‘এটি শুধু ইসরায়েলের শাসনের ইচ্ছাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য। এই যুদ্ধ মার্কিনিদের স্বার্থ রক্ষা করবে না।’

জেরুজালেমে ভয়াবহতা
ইসরায়েলের জেরুজালেম থেকে এক শিক্ষার্থী হামলার সময়ের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বিবিসির কাছে তুলে ধরেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেরুজালেমের আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি বলে বোঝাতে পারব না এটা কত ভয়াবহ একটা অনুভূতি।’ তিনি জানান, ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর খবর ঘোষণার সময় সরকার যখন প্রথম সতর্কতা জারি করে, তখন থেকেই তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। তিনি সাইরেনের শব্দ, একাধিক বিস্ফেরণ ও মুহুর্মুহু বিমান চলাচলের শব্দ শুনতে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘এর আগেও এমন পরিস্থিতি হয়েছিল, তবে এবারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। সেটি যে কতটা ভয়ংকর, তা বলে বোঝানো যাবে না। একেকটি ক্ষেপণাস্ত্র আমাকে বা আমার প্রিয়জনকে হত্যা করতে পারে। বলে বোঝানো যাবে না এ পরিস্থিতির কথা।’

ইসরায়েলের ইরান আক্রমণের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আর এ সরকারকে বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার মনে হয়, তারা নাগরিকদের স্বার্থ উপেক্ষা করে অন্য কারও স্বার্থে কাজ করছে। তারা নিজেদের ক্ষমতায় টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত।’ তিনি বলেন, ‘আমি খুব ক্ষুব্ধ ও ভীতসন্তস্ত্র। আমাদের আবারও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি করা হচ্ছে। কেন যেন মনে হচ্ছে, এই ক্ষমতার বলি হচ্ছি আমরা।’

ইরাকের ইরবিলে মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে বিস্ফোরণ
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় শহর ইরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমি কমপক্ষে তিনটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। আমার বাড়ি কেঁপে উঠেছিল।’

ইরানের নিন্দায় যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্স। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা নিয়ে কোনো কথা বলেনি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্ৎস গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তাদের দেশ ইরানে হামলায় অংশ নেয়নি। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এ অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। এ ছাড়া হামলার শিকার দেশ– সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, আরব আমিরাত ইরানের হামলার ‘তীব্র নিন্দা’ জানিয়েছে।

মার্কিন হামলার নিন্দায় রাশিয়া ও পাকিস্তান
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া ও পাকিস্তান। আলজাজিরা জানায়, রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ একে ‘বিনা উস্কানিতে হামলা’ বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে তিনি মস্কোর অবস্থান তুলে ধরেন।

হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ইরানে হামলাকে ‘বিনা উস্কানি’র বলে বর্ণনা করেন। সেই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক উপায়ে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করার আহ্বান জানান।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com