মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া আমৃত্যু কারাদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেন। গতকাল প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আকরাম হোসেনের আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেওয়া হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আকরাম হোসেনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এ টি এম আজহারুল ইসলামকে গত বছর ২৭ মে এবং ৩০ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. মোবারক হোসেনকে খালাস দেন আপিল বিভাগ। ২০১৪ সালের ৫ নভেম্বর এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে তিন আসামি- সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, খান মো. আকরাম হোসেন ও আবদুল লতিফ তালুকদারের বিচার শুরু হয়। তিন আসামির বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ এনেছিল প্রসিকিউশন।
সাক্ষ্য গ্রহণ ও দুই পক্ষের যুক্তিতর্কের পর ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ফায়ারিং স্কোয়াডে বা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে বলেন ট্রাইব্যুনাল। আর আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দেওয়া হয় আমৃত্যু কারাদণ্ড। রায় ঘোষণার কয়েক দিন আগে ২০১৫ সালের ২৭ জুলাই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় মারা যান আবদুল লতিফ। ফলে রায় ঘোষণার সময় আবদুল লতিফ সংশ্লিষ্ট বিচারিক অংশ মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে সিরাজ মাস্টার ও আকরাম হোসেন ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ২০২১ সালের ২৭ জুন কারাগারে মৃত্যু হয় সিরাজ মাস্টারের। পরে গত বছর ২৫ আগস্ট আকরাম হোসেনের আপিল শুনানির জন্য রেখে সিরাজ মাস্টারের আপিল কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন আপিল বিভাগ। সেই আপিল মঞ্জুর করে আকরাম হোসেনকে খালাস দিলেন সুপ্রিম কোর্ট।
রায়ের পর চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্বভার গ্রহণ করার আগেই এই আপিলের (আকরাম হোসেনের) শুনানি হয়েছিল। গত বুধবার আমি এতে আর্গুমেন্ট (যুক্তিতর্ক) করেছি। আমাদের আর্গুমেন্টের জায়গাটা ছিল, জনৈক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানকে গুলি করে হত্যা। প্রসিকিউশনের চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় চার সাক্ষীর প্রত্যেকে ডেকে খান আকরামকে শনাক্ত করেছিলেন। আমি মনে করি প্রসিকিউশন যথাযথভাবে মামলাটি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।’
তাহলে আপিল বিভাগ কেন খান আকরামকে খালাস দিয়েছেন, জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খুব সম্ভবত জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের রায়ের আলোকে এ রায়টি দেওয়া হয়েছে। আজহারুল ইসলামকেও খালাস দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। পূর্ণাঙ্গ রায়টি বের হলে আমরা পর্যালোচনা করে দেখব। এ রায়ের বিরুদ্ধে কিছু করার থাকলে তা করা হবে।’