বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

স্থবির প্রশাসনে তীব্র গতি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিয়মিত অফিস করছেন নিজ দপ্তরে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়াও প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে সশরীরে অফিস করে যাচ্ছেন। সচিবালয়ের নতুন ভবনের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ২০১ নম্বর কক্ষে তাঁর অফিস। সেই অফিসে বসছেন সরকারি নিয়ম মেনেই।

অফিসে বসেই ক্ষান্ত হচ্ছেন না। সকাল ৯টায় নিজ দপ্তরে বসেই মন্ত্রী-সচিবরা সরকারি সময়সূচি মেনে অফিস করছেন কি না তা-ও মনিটর করছেন। এতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থবির প্রশাসনে কাজের জোয়ার এসেছে। কাজেকর্মে দেখা দিয়েছে তীব্র গতি।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দেখা গেছে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যেও শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। খুব শিগগির তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করবেন। 

গতকাল রবিবার সরকারি নিয়ম মেনেই সকাল ৯টা ৫ মিনিটে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে বসেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও তিনি প্রায় অভিন্ন সময়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয়ে ঢুকেই আঁতকে ওঠেন, তাঁদের আগেই সরকারপ্রধান নিজ দপ্তরে পৌঁছেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী নিজ দপ্তরে বসেই দৈবচয়নের মাধ্যমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা সচিব এসেছেন কি না সেই খোঁজখবরও নিচ্ছেন। আবার অনেক সময় স্টাফদের মাধ্যমে খোঁজ নিচ্ছেন অমুক মন্ত্রী-তমুক সচিব দপ্তরে আছেন কি না! আন্ত মন্ত্রণালয় সভাগুলো নিজ দপ্তরেই করে ফেলছেন। সভা করেই ছেড়ে দিচ্ছেন না। মন্ত্রী নতুন হলেও সচিব কত দিন ধরে ওই মন্ত্রণালয়ে আছেন, সে বিষয়ে অবহিত হয়ে সফলতার জন্য ধন্যবাদ আর ব্যর্থতার জন্য কৈফিয়ত চাইছেন।
সবকিছু মিলে প্রশাসনে এক ধরনের কাজের পরিবেশ ফিরে এসেছে। জবাবদিহির ভয়ে নিজে থেকেই সচিবরা সতর্ক হয়ে উঠেছেন। মন্ত্রীরাও প্রধানমন্ত্রীর মতো নিজেদের কাজকর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। কোনো কোনো মন্ত্রী শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ফুলের তোড়া নেওয়াও বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দৌড়ঝাঁপ দেখার মতো। এখন এই মন্ত্রণালয়ে তো কিছুক্ষণ পরই অন্য ভবনের মন্ত্রণালয়ে। তাঁদের ফুল দিতে এসে শুভাকাঙ্ক্ষীরাও নাস্তানাবুদ। ফুলের তোড়া হাতে এ ভবন থেকে ওই ভবনে দৌড়াতে দেখা গেছে অনেককে। 

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সারা দিন তিনি কর্মব্যস্ত দিন পার করেন সচিবালয়ে। ওই দিন দুপুর ১২টা ৩১ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সারা দিন একাধিক মিটিং করে সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে তিনি সচিবালয় ছাড়েন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, প্রথম দিন থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে সচিবালয়ের ২০১ নম্বর কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় দিন সচিবালয়ে আসেন বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)। সকাল সাড়ে ৯টায় এনএসআই মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ, ১০টায় ডিজিএফআই মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ, সাড়ে ১০টায় তিন বাহিনীর প্রধানরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাড়ে ১১টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ সংক্রান্ত আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি’ বিষয়ক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন। শুধু অফিস দিনে নয়, সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও অফিস করবেন বলে জানান তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) তিনি তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেন।

কর্মকর্তারা জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেন। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮০ দিনের কর্মসূচি তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় উপস্থিতি সরকারের কর্মতৎপরতার ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আগামী দিনগুলোতে তাঁর নেতৃত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ে উপস্থিতি উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রবেশপথে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

প্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াও এ কাজটি নিয়মিত করতেন। নিজে সময়মতো অফিসে এসে অধীনদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতেন। এ কারণে তখনকার প্রশাসন ছিল খুবই সক্রিয়। সরকারি কর্মচারীরা যদি সঠিক সময়ে নিজ দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে দেশ চলবে কী করে। নতুন প্রধানমন্ত্রীর এসব কাজ সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অব্যাহত থাকলে পাল্টে যাবে দেশের চিত্র।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com