সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ২ উপধারা অনুযায়ী, জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। অধিবেশনটি ডাকবেন রাষ্ট্রপতি, তবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শ অনুযায়ী তা করবেন।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, স্বাধীনতার পর প্রথম সংসদের (১৯৭৩) প্রথম অধিবেশন বসে ফল ঘোষণার ১১ দিনের মধ্যে। দ্বিতীয় সংসদের (১৯৭৯) প্রথম অধিবেশন বসতে সময় লাগে তিন সপ্তাহ। তৃতীয় (১৯৮৬) ও চতুর্থ (১৯৮৮) সংসদের ক্ষেত্রে প্রথম অধিবেশন শুরু হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় সপ্তাহে। পঞ্চম (১৯৯১) ও সপ্তম (১৯৯৬) সংসদে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক এমদাদুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের পর থেকে সংসদ অধিবেশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। সংসদ ভবনের ভেতর ও বাইরে পরিচ্ছন্নতা, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতির কাজ শেষ হয়েছে। অধিবেশনের জন্য অধিবেশনকক্ষ ও সেখানকার সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রটোকল, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখা প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংসদের আইন শাখা থেকে অধিবেশন আহ্বান করতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ দিয়ে দ্রুতই রাষ্ট্রপতির দপ্তরে ফাইল পাঠানো হবে। ঈদের আগে অধিবেশন শুরু হলেও বিরতি দিয়ে এই অধিবেশন এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠানে কে সভাপতিত্ব করবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’
সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘সাধারণ নির্বাচনের পর নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে নতুন স্পিকার কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার স্বীয় পদে বহাল আছেন বলে গণ্য হবেন। অর্থাৎ তিনি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন এবং নতুন স্পিকার নির্বাচনে সহায়তা করবেন। যদি স্পিকারের পদ শূন্য থাকে বা তিনি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, তবে পূর্ববর্তী সংসদের ডেপুটি স্পিকার প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।’ কিন্তু ২০২৪-এর ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে স্পিকার পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। যে কারণে বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক আলোচনা চলছে, আসন্ন প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন?
সূত্র জানায়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলেও সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা নিয়ে সংবিধানে সুস্পষ্ট সমাধান রয়েছে। সংবিধানের ৭৪(৬) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যদি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ের পদই শূন্য থাকে বা তাঁরা অধিবেশনে অনুপস্থিত থাকেন, তবে রাষ্ট্রপতির মনোনীত কোনো ব্যক্তি (সাধারণত প্রবীণ কোনো সংসদ সদস্য বা সিইসি) ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে পারেন। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি দল বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো একজনকে রাষ্ট্রপতি সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য মনোনীত করবেন। সে ক্ষেত্রে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন হতে পারেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে তিনিই সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করিয়েছেন। এর বাইরে সরকারদলীয় কোনো একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যকেও এই দায়িত্ব প্রদানের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের বর্তমান সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। এই সেশনে আগের সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্ব করার বিধান থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে যিনি নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ পড়িয়েছেন, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনিই সংসদে সভাপতিত্ব করতে পারবেন বলে আমি মনে করি।’