মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শবেবরাতের সংস্কৃতি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র লাইলাতুল বরাত সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত। মুসলমানদের জন্য ‘অতি পবিত্র রজনী’ হিসেবে পরিচিত শবেবরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদতের মধ্য দিয়ে রাতটি পার করে। উপমহাদেশে শবেবরাত মানে বিকালে বাড়িতে বাড়িতে হালুয়া রুটি বিতরণ আর সারারাত ধরে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকা। ইরান ও ভারতীয় উপমহাদেশে শাবান মাসের এ রজনিকে শবেবরাত বলা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, সিরিয়ার কিছু এলাকা ছাড়া কোথাও ঘটা করে শবেবরাত পালন করা হয় না। এ রাতে গুনাহ ও পাপের অশুভ পরিনাম থেকে মুক্তি পেতে রহমতের জন্য প্রার্থনা করে থাকেন ইসলাম ধর্ম 

পবিত্র কুরআনে এ রাতকে ‘লাইলাতুল মুবারাকাহ্’—বরকতময় রজনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে রসুল (স.) এ মহিমান্বিত রাতকে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ রাতে মুসলমানরা মহান আল্লাহর কাছে মার্জনা প্রার্থনা করে থাকেন। এ কারণে এ রাতকে লাইলাতুল বারকাত বা শবেবরাত বলা হয়।’

পুরোনো ঢাকাবাসীর ঐতিহ্যের অংশ শবেবরাতের আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতা। এখন তা সারা দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। বাড়ির বড়রা এদিনে রোজা রাখেন। মেয়েরা দুদিন আগে থেকেই হালুয়া বানানোর কাজ শুরু করে দেন। শবেবরাতে সকাল থেকেই রুটি বানানোর তোড়জোড় শুরু হয় বাড়িতে বাড়িতে। এর সঙ্গে মাংস রান্না। কোনো কোনো বাড়িতে গরুর মাথা রান্নার চল রয়েছে। আর রাতে এশার নামাজের পর থেকেই শুরু হয় ইবাদত-বন্দেগি। মসজিদে মসজিদে যেমন নামাজ পড়তে যান সবাই তেমনি বাসাতেও মেয়েরা সব কাজ শেষ করে নামাজে বসেন। এদিকে, মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। চলে তবারক বিতরণ।

ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন জানান, ঊনিশশো শতকের শেষের দিকে ঢাকায় শবেবরাত পালন মুসলিম পরিচয় প্রকাশের বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শবেবরাত একটি বড় ধরনের উৎসবে পরিণত হয়েছে। পাকিস্তান আমলে এর সঙ্গে সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় সেটি পালনের ব্যাপকতা আরো বেড়েছে। বর্তমান বাংলাদেশে শবেবরাত পালন ধর্ম এবং সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী ইত্তেফাককে বলেন, ফার্সি শব্দ শব অর্থ রাত বা রজনি এবং বরাত শব্দটির মূল অর্থ ভাগ্য। একত্রে এর অর্থ হয় ভাগ্য রজনি। উপমহাদেশে ফার্সি ভাষা প্রায় ৮০০ বছর রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ৬০০ বছরেরও অধিক কালব্যাপী (১২০৩-১৮৩৭) ফারসি ছিল বাংলার রাষ্ট্রভাষা। তাই, এ অঞ্চলে ফার্সি ভাষার প্রভাব রয়ে গেছে।

অধ্যাপক ড. মো. আতাউর রহমান মিয়াজী বলেন, উপমহাদেশে ইসলাম ছড়িয়ে পড়ে পির-আউলিয়াদের মাধ্যমে। হজরত খাজা মঈনুদ্দীন চিশতী (রহ.), হযরত শাহজালাল (রহ.)সহ এমন পির-দরবেশের মাধ্যমে। তাদের দরবার সবসময় খোলা থাকত। গরিব মানুষদের জন্য সেখানে খাবারের ব্যবস্থাও থাকত। আর বিশেষ বিশেষ দিনে থাকত বিশেষ খাবার। শবেবরাত, শবেকদর, ঈদে মিলাদুন্নবি—এসব দিনে সেখানে ভালো খাবারের আয়োজন থাকত; যা তাদের আস্তানায় আসা গরিব মানুষদের মাঝে বিতরণ করা হতো। সেখান থেকেই হালুয়া রুটির প্রচলন শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।

তিনি বলেন, শবেবরাতে হালুয়া রুটি বানানো তা মানুষের মাঝে বিলি করার মধ্যে বাধা নেই। এটা কোনো খারাপ কাজ নয়। ধর্মীয়ভাবে এতে কোনো বাধা নেই। গরিব মানুষকে খাওয়ানোতে আত্মীয়স্বজনদের বাসায় মিষ্টি বিতরণে কোনো বাধা নেই। তবে, বাড়াবাড়ি সবকিছুতেই খারাপ। লোক দেখানো আয়োজন, অতিরিক্ত আয়োজন করে অপচয় করা, সেটা ভালো নয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি সম্পর্ক আছে।

ইতিহাসবিদ ও গবেষক সাদ উর রহমান বলেন, ঢাকার নওয়াবরা শবেবরাতকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানিকতার প্রচলন করেন। তারাবাতি, আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালানোসহ পুরো আলোকসজ্জায় সাজানোর প্রচলন তাদের হাত ধরেই শুরু হয়। তবে, পটকা ফোটানোর চল শুরু হয় তরুণদের হাত ধরে। তবে, পটকা ফোটানো খুব বিপজ্জনক। বিশেষ করে, পুরোনো ঢাকার মতো ঘিঞ্জি এলাকায় এটা বড় বিপদের কারণ ঘটতে পারে। তাই এ কাজ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

ঘরে তৈরি হয় বুটের ডাল, ময়দা, সুজি বা নেশেস্তার হালুয়া আর গাজরের হালুয়া। মিষ্টির দোকানে পাওয়া যায় মাশকাতের হালুয়া। অনেক পরিবার হালুয়া জমাট করে বরফি আকারে ছাচ দিয়ে কেটে মেহমানের সামনে পরিবেশন করেন। হালুয়া রুটি ছাড়া সচ্ছল পরিবারে পোলাও, কোরমা, ভুনা খিচুড়ি ও হাঁসের মাংস রান্না করা হয়।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com