মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নির্বাচনের আগেই প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় অধিদপ্তর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকট নিরসনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগেই ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

 

এনিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ বলছেন, নির্বাচনী ব্যস্ততার মধ্যে এমন স্পর্শকাতর নিয়োগের কার্যক্রম তাড়াহুড়া করা ঠিক হবে না। তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অধিদপ্তর বলছে, এটি অস্বাভাবিক তাড়াহুড়া নয়। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের নির্দেশে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

জানা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৫০২টি। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে ৩১ হাজার ৩৯৬ জন কর্মরত আছেন। আর শূন্য পদ রয়েছে ৩৪ হাজার ১০৬টি।

সংশ্লিষ্টকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকের এসব পদ শূন্য থাকায় প্রভাব পড়েছে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রমেও। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে এক থেকে তিনজন শিক্ষক দিয়েও চলছে বিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা।

 

শিক্ষক সংকট কাটাতেই নির্বাচনের আগেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪ হাজার ৩৮৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। স্বল্প সময়ে আবেদন নিয়ে পরীক্ষা গ্রহণ শেষে এবার দ্রুত ফল প্রকাশ করেছে। এরই মধ্যে তিন জেলায় মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগেই চূড়ান্তভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের।

অধিদপ্তর বলছে, শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া তাদের নিয়মিত কাজ। জাতীয় নির্বাচন বা অন্য কোনো কিছুর কারণে নিয়োগ আটকে রাখার সুযোগ নেই। শিক্ষক সংকট কাটিয়ে উঠতে তারা স্বাভাবিক নিয়মে কাজ করছে।

তবে, চাকরিপ্রার্থীদের অনেকে মনে করেন তাড়াহুড়ো করে পরীক্ষা নিলেও ফল প্রকাশ হতে অনেক দেরি হবে।

শিক্ষক সংকট নিরসন প্রসঙ্গে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফেরাতে সরকার বিভিন্ন বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়টিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। বর্তমানে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই এই সমস্যার নিরসন হবে।

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৯ জানুয়ারির লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৮৮ পরীক্ষার্থী, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ৭৬ শতাংশ। এই বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে শর্ত সাপেক্ষে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ৬৯ হাজার ২৬৫ জন। জেলাভিত্তিক ফলে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা থেকে (২ হাজার ৮০৭ জন)। এরপরেই রয়েছে কুমিল্লা (২ হাজার ৫৬৪ জন), কুড়িগ্রাম (২ হাজার ৪৬০ জন), দিনাজপুর (২ হাজার ৪২১ জন) ও গাইবান্ধা (২ হাজার ২৯৫ জন)।

মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের সত্যায়িত কপি ২৭ জানুয়ারির মধ্যে নিজ নিজ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে জমা দিতে হবে। জমাদানের সময় অবশ্যই প্রাপ্তি স্বীকারপত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার দিন সব কাগজপত্রের মূল কপি সঙ্গে আনতে হবে।

 

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২৮ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে এই মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রার্থীদের নাগরিকত্ব সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, লিখিত পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিতে বলা হয়েছে।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com