রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা এ দেশকে লুটেপুটে খাওয়ার জন্য মসনদে বসতে চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।’
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটা দল ইদানীং বলছে তারা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করবে। অথচ তাদের ৩৯ জন সংসদ সদস্য প্রার্থীই ঋণখেলাপি। কায়দা করে তাদের প্রার্থী বানানো হয়েছে। তারা কীভাবে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করবে?’
নিজের পূর্ববর্তী একটি বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার একটি বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল, মহাসাগরে ঢেউ উঠেছিল। আমি বলেছিলাম, এ দেশের জনগণ এক জালিমকে বিদায় করে আরেক জালিমের হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। আমার সেই কথা কি আজ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে?’
ভোটের দিন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না জানিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘আগামী ১২ তারিখে কোনো দুর্বৃত্ত ভোটের বাক্সে হাত দিতে এলে জনগণের সহায়তায় তাদের হাত গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।’
দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কিছু উৎপাত দেখতে পাচ্ছি–এখান থেকে ওখান থেকে। বাংলাদেশের মানুষ যখন মুক্তির সন্ধানে তাদের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, তখন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে হস্তক্ষেপ করছেন। আমরা তাদের প্রতি বিনয়ের সঙ্গে শক্ত কণ্ঠে অনুরোধ জানাব, মেহেরবানি করে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আর নাক গলাতে আসবেন না। এতদিন নাক গলিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয়েছে, তা টিস্যু দিয়ে সামলে নেন। আর নাক গলানো আমরা দেখতে চাই না। বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে বিশ্বদরবারে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সব দেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু কারো আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না। আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অনেকেই নাক গলাতে আসছে; আমরা দেশের বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির নাক গলানো মেনে নেব না।’
জুলাই অভ্যুত্থান কারো ব্যক্তিগত সম্পদ নয় উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই ১৮ কোটি মানুষের। কাউকে এককভাবে এই যুদ্ধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অপমান করা হয়। এই যুদ্ধের মাস্টারমাইন্ড ছিল দেশের ১৮ কোটি মানুষ।”
জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আপনারা আপনাদের দোয়া দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে সমর্থন দিয়ে ভোট দিয়ে আমাদের একটা সুযোগ দেন। আল্লাহতে ভরসা করেন, আমরা বলেছি চাঁদা আমরা নেব না, চাঁদা নিতে দেবও না। আমরা বলেছি– দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্যও করব না।